
তারিখ
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
সময়
02:00:00
ভেন্যু
নিউ জার্সি
শেষ হয়ে গেল ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা স্বপ্ন। এক আর্লিং হলান্ডেই থেমে গেলো সাম্বার তাল। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে অজেয় রেকর্ড অক্ষুন্ন রেখে হলান্ড জোড়া গোলে নরওয়েকে প্রথমবারের মতো নিয়ে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে।
৭৯ মিনিটে ব্রাজিল ডিফেন্সে ফাটল ধরিয়ে প্রথম গোল করেন নরওয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলান্ড। সেই ধাক্কা সামলে ব্রাজিল মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল ম্যাচে ফেরার। সে চেষ্টায় ফের জল ঢেলে দেন হলান্ড। ৯০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান। একই সঙ্গে সাত গোল করে চলতি আসরের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ছুঁয়ে ফেলেন আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি ও ফরাসি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ দিয়েছিলেন বদলী নামা নেইমার জুনিয়র। তবে পারেননি দেশের দুই যুগের আক্ষেপ ঘোঁচাতে। তাই বিদায়বেলায় নেইমারদের সঙ্গী হয় কান্না।
১৯৯৮ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলকে ২-১ গোলের হার উপহার দিয়েছিল নরওয়ে। সেবারের হারটা ছিল গ্রুপ পর্বে। সেই ধাক্কা সামলে সেবার ফাইনালে খেলেছিল ব্রাজিল। তবে এবারের হারের সঙ্গে তুলনা চলে না আর কিছুর। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আর ফাইনালেই পৌঁছাতে পারেনি সেলেসাওরা। বড় স্বপ্ন নিয়ে এ বিশ্বকাপে তারা দায়িত্ব দিয়েছিল ইতালিয়ান পরীক্ষিত কোচ কালো আনচেলত্তিকে। এই অভিজ্ঞ টেকটেশিয়ানও পারলেন না হলান্ড ধুমকেতু থামাতে। নরওয়েকে ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টারে তোলার পর তাই ট্রেডমার্ক উদযাপনেও দিলেন নের্তৃত্ব।
গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। এবার সেই ধাপেও যেতে পারল না দলটি। তার আগেই হলান্ড ফেরার টিকিট ধরিয়ে দিলেন নেইমারদের হাতে। হেক্সা মিশণের অপেক্ষাটা সেলেসাওদের দীর্ঘায়িত হল আরও চার বছর।
শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেন নেইমার।
৯০ মিনিটে ২-০ করলেন হলান্ড। বক্সের বেশ বাইরে থেকে বাঁ পায়ের গড়ানো শটে ব্রাজিল ডিফেন্স ও গোলকিপার আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। সপ্তম গোলে ছুঁয়ে ফেললেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
ব্রাজিলের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলো হলান্ডের দ্বিতীয় গোলে।
অবশেষে দেখা মিলল হলান্ড ঝলক। ৭৯ মিনিটে তার গোলে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলল নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদ্রুপের ক্রস মার্কার গ্যাব্রিয়েলকে ছিটকে ফেলে নিঁখুত হেডে ব্রাজিলের জাল খুঁজে নেন হলান্ড। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
ব্রাজিলকে কী পারবে বাকী সময়ে ম্যাচে ফিরতে?
পানি পানের বিরতির ঠিক আগে মাঠে এলেন ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ৬৭ মিনিটে আনচেলত্তি জোড়া পরিবর্তন করেন। মার্তিনেল্লির জায়গায় আসেন ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। আর ডগলাস সান্তোস আসেন রায়ানের জায়গায়।
নেইমার-এনদ্রিকে ম্যাচ ভাগ্য নিজেদের করতে চায় ব্রাজিল।
৫৯ মিনিটে মাতেউস কুনিয়াকে তুলে নিয়ে এনদ্রিককে নামান ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। নেমেই ব্রাজিলকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ ফরোয়ার্ড। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ডিফেন্সচেঁড়া পাস দেন এনদ্রিককে। বল নিয়ে সামনে নরওয়ে কিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। তার শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।
যদিও তারা বল দখলে প্রথমার্ধে অনেকটা এগিয়ে ছিল এবং সেই এগিয়ে থাকাকে গোলে রূপান্তিত করতে পারেনি, অন্তত একটি দিক থেকে ইতিহাস এখন নরওয়ের পক্ষে। প্রথমার্ধ সমতায় থাকা আগের ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচের মধ্যে নরওয়ে মাত্র একটিতে হেরেছে (২টি জয়, ৩টি ড্র)। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের সর্বশেষ ম্যাচটিও। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধ ছিল গোলশূণ্য। তবে ম্যাচটা নরওয়ে জেতে ২-১ ব্যবধানে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কী হলান্ডরা করতে পারবেন?
ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কী তারা পৌঁছাতে পারবে?
নিউ জার্সিতে জমে উঠেছে ব্রাজিল-নরওয়ে লড়াই। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলহীন অবস্থায়।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ম্যাচে দু'দল খেলছে দু'রকম কৌশলে। কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল শুরু থেকেই গোলের মরিয়া চেষ্টা করছে। তাই তারা সুযোগও তৈরী করেছে বেশি। তাদের বারবার হতাশ করেছেন নরওয়ে কিপার ন্যুলান। গিমারেসের পেনাল্টি ঠেকানোর পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মার্তিনেল্লির দুই ভালো প্রচেষ্টা রুখে দেন।
নরওয়ে একটু দেখে শুনে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে খেলার চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে সহজাত তেড়েফুড়ে আক্রমণে ওঠার প্রবণতা কম দেখা যাচ্ছে। বরং ঘড় সামলে কাউন্টার অ্যাটাকে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে তারা। শেষ দিকে ওডেগার্ডের একটা ভালো শট রুখে দেন ব্রাজিল কিপার আলিসন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে মার্টিন ওডেগার্ডের বাঁ পায়ের শট দারুণভাবে ব্লক করেন ব্রাজিল কিপার আলিসন।
৪০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলের প্রচেষ্টা রুখে দেন নরওয়ে কিপার ইয়োরিয়ান ন্যুলান। এর আগে গিমারেসের পেনাল্টি রুখে দিয়েছিলেন এই কিপার।
১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না ব্রুনো গিমারেস। তার শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে রুখে দেন নরওয়ে কিপার ইয়োরিয়ান ন্যুলান।
এর আগে বক্সে কুনিয়াকে ফাউল করেন নরওয়ে ডিফেন্ডার ক্রিস্কোফার আইয়ের।
প্রথমে পেনাল্টি নিতে গিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। পরে সিদ্ধান্ত বদলে গিমারেস নেন শট। এই পেনাল্টি মিসের চড়া মূল্য দিতে হয় কিনা ব্রাজিলের, সেটাই দেখার
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ব্রাজিলের জাল খুঁজে নিয়েছিলেন পাত্রিক বার্গ। তবে তার আগেই অফসাইড লাইন অতিক্রম করেন বার্গকে বলের জোগান দেওয়া সুরলত। সহকারীর পতাকা উঠে যায় বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই
দারুন লড়াই হবে ভিনিসিয়ুস বনাম নরওয়ের রাইটব্যাক রায়ারসনের মধ্যে। ব্রাজিলের উইঙ্গার অসাধারণ ফর্মে আছেন এই বিশ্বকাপে। কিন্তু রায়ারসন সেনেগালের ম্যাচ চোট পেয়েছিলেন। চোট সারিয়ে দলে ফেরা এই রাইটব্যাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভিনিকে সামলানো।
২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারানোর পর থেকে, ব্রাজিল দল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেনি। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই ব্রাজিলকে বিদায় দিয়েছে পাঁচ ইউরোপীয় দল।
ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি কী পারবেন ব্রাজিলের ভাগ্য ফেরাতে?
ফ্রান্স ১-০ ব্রাজিল (২০০৬ কোয়ার্টার ফাইনাল)
নেদারল্যান্ডস ২-১ ব্রাজিল (২০১০ কোয়ার্টার ফাইনাল)
জার্মানি ৭-১ ব্রাজিল (২০১৪ সেমিফাইনাল)
নেদারল্যান্ডস ৩-০ ব্রাজিল (২০১৪ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ)
বেলজিয়াম ২-১ ব্রাজিল (২০১৮ কোয়ার্টার ফাইনাল)
ক্রোয়েশিয়া ১-১ ব্রাজিল, ৪-২ টাইব্রেকার (২০২২ কোয়ার্টার ফাইনাল)
শেষ ষোলতেই দেখা হয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই সুপারস্টারের। দুর্দান্ড ফর্মে আছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ড।
ভিনিসিয়ুস চার ম্যাচে করেছেন চার গোল। হলান্ড অবশ্য তার চেয়েও বিধ্বংসী রূপে আবির্ভুত হয়েছেন। তার গোল সংখ্যা পাঁচ।
আজ নিউ জার্সিতে খানিক বাদেই মুখোমুখি হচ্ছেন দুই তারকা। কোয়ার্টার ফাইনালের যাওয়ার লড়াইয়ে আজ ব্রাজিল এবং নরওয়ের মধ্যে একটি দলের বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে যাবে আজ।
২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচ বিশ্বকাপেই ব্রাজিল আগেভাগে বিদায় নিয়েছে ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের কাছে নক-আউট পর্বে হেরে। আজও কী সেই ভাগ্য বরণ করতে হবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে?