ব্রাজিল বারবার আটকায় সোনালি প্রজন্মে

২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্মের’ কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। ছবি: সংগৃহীত
আবারও একটি সোনালি প্রজন্মের মুখে পড়েছে ব্রাজিল। গত দুই বিশ্বকাপে দুটি ইউরোপীয় দেশের সোনালি প্রজন্মের মুখোমুখি হতেই শেষ হয়েছিল সেলেসাওদের বিশ্বকাপ। চার বছর পর তারা এবার নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের একটি ঝলমলে প্রজন্মের মুখোমুখি হচ্ছে। তাই হলুদ শিবিরে ভয় ভয়, আবার না ‘সোনালি প্রজন্মের অভিশাপে’ ভেস্তে যায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ।
২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ছিল ফুটবল প্রতিভার এক পূর্ণ নক্ষত্রমণ্ডল। গোলপোস্টে থিবো কর্তোয়া, মাঝমাঠে কেভিন ডি ব্রুইনা, আক্রমণে এডেন হ্যাজার্ড ও রোমেলু লুকাকু— প্রতিটি পজিশনেই ছিল তারকার দীপ্তি। অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য ও আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল সেই দলটি ছিল নিজেদের স্বর্ণযুগের চূড়ায়।
সেটা এমন একটা সময় যখন প্রায় পুরো বছর বিশ্বের এক নম্বর দল হয়েছিল বেলজিয়াম। বছরের শেষদিকে গিয়ে তারা ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে ছিল র্যাংকিংয়ের শীর্ষে। অমন একটি প্রজন্মের বিস্ফোরণের মুখে পড়ে সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে গিয়েছিল ব্রাজিলের স্বপ্নযাত্রা।
চার বছর বাদে কাতারের মঞ্চে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। লুকা মদরিচের নেতৃত্বে সেই দলটি হয়তো তারুণ্যের ঝলক কিছুটা হারিয়েছিল, তবে অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতায় অনন্য। মদরিচ, রাকিতিচ, কোভাচিচ ও ব্রোজোভিচের ছন্দে গড়া মিডফিল্ডের হাতেই ছিল পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ। ওটাই ছিল ক্রোয়াট ফুটবলে শক্তির আসল জায়গা। যেখানে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল অতিরিক্ত সময়ে নেইমারের গোলে এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ক্রোয়াটরা এরপরও হাল ছাড়েনি। তার ফল ১১৭ মিনিটে পেতকোভিচ গোল করে সমতা ফেরান ম্যাচে। এরপর টাইব্রেকারে ভেঙে যায় সেলেসাওদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। আরেকবার তারা আত্মসমর্পণ করে ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্মের সামনে।
অমন প্রজন্ম যেন সেলেসাওদের পিছু ছাড়ছে না। এবার তারা পড়েছে নরওয়ের সোনালি প্রজন্মের বিস্ফোরণের মুখে। দলটি নিঃসন্দেহে তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রজন্ম। মার্টিন ওডেগার্ডের শিল্পিত পাস ও আর্লিং হলান্ডের গোলক্ষুধা নরওয়েকে দিয়েছে এক নতুন পরিচয়। হয়তোবা সেই বেলজিয়ামের মতো প্রতিটি পজিশনে বিশ্বসেরা তারকা সমাবেশ নেই কিন্তু আছে তারুণ্যের স্পন্দন, স্বপ্ন দেখার সাহস ও নতুন ইতিহাস লেখার আকাঙ্ক্ষা।
এই ঝলমলে প্রজন্মের সামনে আজ রাতে আরেকটি কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে ভিনি-মার্কিনিয়োসদের। তা ছাড়া ব্রাজিল কখনো হারাতে পারেনি নরওয়েকে। বিশ্বকাপে এক ম্যাচের অভিজ্ঞতায়ও আছে হারের যন্ত্রণা। সব মেলালে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে সেলেসাওরা ‘সোনালি প্রজন্মের অভিশাপের’ ভয়ে আছে।




