বোর্ডে প্রথম সাদমানের বড় শিক্ষক তার মা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রথম সাদমান ইসলাম— সংগৃহীত
নিয়ম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই নিয়ে বসে থাকতো না সাদমান। তার কাছে পড়ালেখা মানেই দিনের পড়া দিনে শেষ করা। একগ্রতা ও অধ্যবসায়। আর ডিভাইস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে দূরে রাখা। এই টনিকই চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ সাদমান ইসলামকে দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২২১ পেয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রথম হয় সাদমান ইসলাম।
অসাধারণ এই ফলাফলের পরও সাদমানের কথায় নেই কোনো আত্মতুষ্টি। বাবা মা এবং শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করল সাদমান, ‘মহান আল্লাহ তাআলা যদি আমার ওপর রহমত না করতেন, তাহলে আজকে এ ধরনের ফলাফল কখনোই সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে আমি আমার বাবা-মায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞ। স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের খুব যত্ন করে পড়াতেন।’
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও করত সাদমান। তবে পড়ালেখার ধারাবাহিকতা ছিল মুখ্য। শুধু পাঠ্যবই কিংবা শিক্ষকের ওপর নির্ভর না করে নিজের চেষ্টাও কম ছিল না। তার মতে, ‘শিক্ষকরা পড়াটাকে সহজ করে দিতে পারেন, কিন্তু তা আত্মস্থ করতে হলে শিক্ষার্থীকেই পরিশ্রম করতে হবে।'
নগরের মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা সাদমানরা। স্কুল ও ঘরে পড়ার পাশাপাশি কোচিংয়েও যেত সে। এ ছাড়া প্রাইভেট শিক্ষকও ছিল। সাফল্যেও সবচেয়ে বড় শিক্ষক তার মা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সাদমান বড়। ছোট বোন পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে। বাবা ফখরুল ইসলাম বেসরকারি চাকরিজীবী। চাকরির সুবাদে তাকে থাকতে হয় কুমিল্লায়। ফলে সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের দেখভালের বড় দায়িত্বই সামলাতে হয়েছে মা ছাহিদুন্নেছাকে। আদরে শাসনে সাদমানকে আগলে রেখেছেন তিনি।
সাদমানের মা জানালেন, ‘অন্য সব ছেলের মতো সাদমানও মাঝে মাঝে কম পড়তে চাইত। আমি ধমক দিতাম, রাগ দেখাতাম, একেবারে ছেড়ে দিতাম না। সেটা সে বুঝতে পারত, তাই মনোযোগ দিয়ে পড়াটাও শেষ করত।’
ছেলের এমন সাফল্যে এখন মায়ের চোখে নতুন স্বপ্ন। তিনি চান, সাদমান ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়ে আরও বড় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাক। শুধু পরিবারের কাছেই নয়, সাদমানের সাফল্যে খুশি তার শিক্ষকরাও। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদের মতে, এই অর্জন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
প্রধান শিক্ষক জানালেন, সে আসলেই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার পরিশ্রমের কারণেই সে চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রথম হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক আর নিজের চেষ্টার কারণেই সে এটা অর্জন করতে পেরেছে।’
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সেরা হওয়া সাদমানের এখন লক্ষ্য ঢাকার নটরডেম কলেজে পড়া। ভবিষ্যতে প্রকৌশল শিক্ষার স্বপ্নও দেখে। একদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়তে চায় সাদমান।
১২২১ নম্বর পেয়ে সাদমান এখন তার অনুজদের কাছে আগামী দিনের পথ প্রদর্শক। তার মাইলফলকটি ছোঁয়ার চেষ্টা থাকবে আগামীর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। আর সাদমান ভবিষ্যৎ চলার পথে আরও এরকম শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজের করে নিতে চায়।





