চকরিয়া
তুলে নেওয়ার ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশে মিলল ছাত্রদল নেতার মরদেহ

নিহত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান
কক্সবাজারের চকরিয়ার মহাসড়ক থেকে এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে সাদা রঙের একটি নোয়া গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
ওই ছাত্রদল নেতার নাম ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৭)। তিনি উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী গ্রামের নাজেম উদ্দিনের ছেলে। ওই ইউনিয়নের ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
নিহতের পরিবারের বরাতে তিনি জানান, রবিবার রাত ১২টার দিকে কাকারা এলাকা থেকে সাদা রঙের একটি নোয়া গাড়িতে করে একদল দুর্বৃত্ত জিসানকে তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে রাত ৩টার দিকে খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, জিসানকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে একটি সুতার বস্তায় ভরে হত্যা করে মহাসড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।
চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে জিসানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলেও তাদের দাবি।
এ ঘটনায় কবির টাওয়ারের মালিক মোহাম্মদ জকরিয়ার ছোট ভাই মিজানের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মিজান সেখানে জিসানকে তুলে নিয়ে কেটে ১৪ টকরো করার হুমকি দেয়।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পী জানিয়েছেন, জিসানকে অপহরণের পর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায় সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, জিসান হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের কয়েকটি দল কাজ করছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার গলা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে কেন অপহরণ করা হয়েছিল, এর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




