পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে মতিন

আহত পাখিকে সুস্থ করে অবমুক্ত করেন মতিন সৈকত
কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে তিন দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মতিন সৈকত। পশুপাখি বা বন্যপ্রাণী আহত হওয়ার খবর পেলেই তিনি তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন বাড়িতে। এরপর সেবা দিয়ে সুস্থ করে অবমুক্ত করেন। এ পর্যন্ত মতিন দুই হাজারের বেশি পাখি, ছয়টি বিরল প্রজাতির বনবিড়ালের ছানা, দুটি বেজি, ১০টি গুইসাপ, ছয়টি শিয়াল উদ্ধার ও অবমুক্ত করেছেন।
পরিবেশ দূষণমুক্ত ও নদী-খাল দখলমুক্ত করতে মতিন সৈকত প্রায়ই এলাকাবাসীকে নিয়ে গড়ে তোলেন আন্দোলন। তিন দশক ধরে শিক্ষার্থী, সমাজের সচেতন মানুষকে প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষা ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষে দাউদকান্দি মডেল ও নিরাপদ খাদ্য উপজেলা দাউদকান্দি মডেলের অন্যতম উদ্যোক্তা মতিন।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিন সৈকত (৫৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে দাউদকান্দির একটি মাদ্রাসায় বাংলা বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন।
স্থানীয় কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান ও আবুল হোসেন জানালেন, বোরো ধান উৎপাদনে মৌসুমব্যাপী সেচের পানির জন্য সারা দেশে কৃষকদের বিঘাপ্রতি ১ থেকে ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। মতিন সৈকত ৩০ বছর ধরে মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে বোরো ধানের মৌসুমব্যাপী বিঘাপ্রতি সেচ সুবিধা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
কৃষক কামাল মিয়া জানালেন, মতিন সৈকতের পরামর্শে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারের ফলে বোরো ধান চাষে তিনি রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৭০ ভাগ কমাতে পেরেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হালিম মিয়ার ভাষ্য, ফসল কিংবা মাছ চাষে ফরমালিন বা ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার না করার জন্য মতিন সৈকতের প্রচারণায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে।
মতিন সৈকত ২০১০ ও ২০১৭ সালে কৃষিতে জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ অবদানের জন্য ছয়বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি।
মতিন সৈকত বললেন, ‘প্রায় তিন দশক ধরে পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করছি। দাউদকান্দি ও আশপাশের এলাকা জুড়ে মাছের অঞ্চল হওয়ায় এখানে অনেক পাখি মাছ খেতে ছুটে আসে। পাখিরা এখানে এসে অনেক জায়গায় আটকা পড়ে। ২০০০ সাল থেকে আহত অন্তত দুই হাজার পশুপাখি উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করেছি।’
উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পরিবেশ, কৃষি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতিন সৈকতের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানার ভাষ্য, মতিন সৈকত দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও কৃষি নিয়ে কাজ করছেন। তার সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।




