তারকাবহুল ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দি ওডিসি’

ক্রিস্টোফার নোলান ও প্রযোজক পলা টমাসের সঙ্গে ‘দি ওডিসি’ সিনেমার অভিনয়শিল্পীরা। ছবি: ইউনিভার্সেল পিকচার্স
এককাতারে ম্যাট ডেমন, রবার্ট প্যাটিনসন, অ্যান হ্যাথাওয়ে, টম হল্যান্ড, জেন্ডায়া, লুপিটা নিয়োঙ্গো, সামান্থা মর্টন, জন লেগিজেমো, বেনি স্যাফডি, হিমেশ প্যাটেলসহ হলিউডের একঝাঁক তারকা। কে নেই! ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘দি ওডিসি’র প্রিমিয়ারে সমবেত হয়েছেন এই হেভিওয়েট তারকারা। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গতকাল রবিবার ছিল এই আয়োজন।
ব্রিটিশ নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা, একঝাঁক তারকার সমারোহ, গ্রিক কবি হোমারের প্রায় তিন হাজার বছরের পুরনো অমর মহাকাব্য ‘দি ওডিসি’ অবলম্বনে চিত্রনাট্য— সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই হলিউডের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে এটি। ‘ওপেনহাইমার’-এর মাধ্যমে অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য ও অস্কার জয়ের পর ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন কাজ হওয়ায় ‘দি ওডিসি’ নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। ইউনিভার্সাল পিকচার্সের পরিবেশনায় ১৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে ২ ঘণ্টা ৫২ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটি।
ঘরে ফেরার গল্প
ট্রয় যুদ্ধ শেষে রাজা ওডিসিয়ুসের নিজের রাজ্য ইথাকায় ফেরার ১০ বছরের দীর্ঘ ও বিপদ সংকুল যাত্রার পৌরাণিক গল্প তুলে ধরা হয়েছে ‘দি ওডিসি’তে। স্ত্রী পেনেলোপি ও ছেলে টেলেমাকাসের কাছে ফিরতে গিয়ে তাকে সমুদ্রদানব, দেবতাদের অভিশাপ এবং নানা অতিপ্রাকৃত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ক্ল্যাসিকসের অধ্যাপক মেরি বিয়ার্ড মনে করেন, সিনেমাটি নতুন প্রজন্মকে আবারও প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে আনতে পারে। তার মতে, যুদ্ধ মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলে আর সভ্যতা ও বর্বরতার সীমারেখা কোথায়, ‘ওডিসি’ আজও সেই প্রশ্ন তোলে।
বিতর্ক
কৃষ্ণাঙ্গ তারকা লুপিটা নিয়োঙ্গোকে হেলেন অব ট্রয়ের চরিত্রে নেওয়ায় তুমুল সমালোচনা হজম করতে হয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানকে। আবার অনেকের অভিযোগ, গ্রিক পুরাণভিত্তিক এমন একটি চলচ্চিত্রে পর্যাপ্ত গ্রিক অভিনেতাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
শুটিংয়ে মহাসমারোহ
২৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজেটে নির্মিত ‘দি ওডিসি’ ক্রিস্টোফার নোলানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। পুরো সিনেমাটি আইম্যাক্স ফরম্যাটে চিত্রায়িত। এ জন্য ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ফুট ফিল্ম। নিজের পরিচিত নির্মাণধারা বজায় রেখে গ্রিন স্ক্রিন তথা কম্পিউটারনির্ভর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের পরিবর্তে বাস্তব লোকেশন, বাস্তব সেট এবং প্রকৃত প্রপস ব্যবহার করেছেন নির্মাতা। ট্রোজান ঘোড়া, ওডিসিয়ুসের জাহাজসহ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাস্তবেই নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে দর্শকের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়।
রেকর্ডের অপেক্ষা
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম তিন দিনে ৮ থেকে ১০ কোটি ডলার আয় করতে পারে ‘দি ওডিসি’। অনেকের মতে, হলিউডের বড় বাজেটের সিনেমাকে নতুনভাবে প্রাণ দিতে পারে এটি।





