মেলোনির ‘নজর’ থেকে বাঁচতে মরিয়া ট্রাম্প!
- ‘আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত মেলোনি, আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের শেয়ার করা বিতর্কিত ছবি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ‘নজর’ থেকে বাঁচতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ট্রুথ সোশ্যালে রবিবার একটি অদ্ভুত মিম বা ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে মেলোনিকে তার দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা যাচ্ছে। ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প এ ছবির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, মেলোনি তার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত। এ কারণে তার সুরক্ষায় এখন ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন। মেলোনির সঙ্গে চলমান ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক বিরোধের জের ধরে এ ছবির মাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন ট্রাম্প। ৭-৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের আগমুহূর্তে তার এ আচরণ দেশ দুটির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৪৯ বছর বয়সী মেলোনির সঙ্গে পোস্ট করা ছবিটি এডিট করা। ইতালির এই ডানপন্থী নেত্রীর ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’। একই সময়ে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার স্ত্রী মিশেল ওবামার একটি বিকৃত ছবিও পোস্ট করেছেন। যেখানে তাদের বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানের গায়ে গ্রাফিতি বা ব্যঙ্গচিত্র আঁকা ছিল।
তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে জোটের অন্য ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ট্রাম্প ও মেলোনি উভয়েরই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সভার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই কাণ্ড ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উসকে দিতে পারে বিভেদ।
বিশ্বের এ দুই প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতার মধ্যকার বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল গত সপ্তাহে। যখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সাম্প্রতিক জি-সেভেন সম্মেলনের সময় মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘বারবার’ অনুরোধ করেছিলেন। অর্থাৎ এক প্রকার ভিক্ষা বা অনুনয়-বিনয় করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ এবং বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন মেলোনি। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল রেতে ফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ইতালি এবং আমি কখনোই কারও কাছে ভিক্ষা বা অনুনয় করি না।’




