শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষিকার ‘বডি ম্যাসাজ’, জড়িতদের শোকজ

শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: ভাইরাল ভিডিও থেকে নেওয়া
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার শরীর ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনার। বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের দিয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ)। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার খালিশা চ্যালানী ইউনিয়নের চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের একটি বিছানায় শুয়ে ছিলেন সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার। এ সময় এক শিশু শিক্ষার্থী তার শরীর ম্যাসাজ করছিল। একই কক্ষে উপস্থিত অপর দুই সহকারী শিক্ষিকা ওয়াহিদা জান্নাত মুনমুন ও মনি আক্তারকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের একজন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং অন্যজন গল্পে ব্যস্ত ছিলেন।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার স্থান। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামিয়ার রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘ভিডিওটি নজরে আসার পর প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শোকজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’




