স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের ডিওএস আন্ডার সেক্রেটারির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ ও অতুল খারে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের (ডিওএস) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের। এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা, বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টের পরিচালনাগত সহযোগিতা, প্রতিপূরণ দ্রুতকরণ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের এস-২৭২৯ নম্বর কক্ষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্যদের প্রতিপূরণ প্রক্রিয়া সহজতর করতে ডিওএসের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য অতুল খারেকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় অবদানের জন্য ডিওএসের পরিবেশ বিভাগকেও কৃতজ্ঞতা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এই খাতে বাংলাদেশের যে বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার করে জাতিসংঘের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌর প্যানেল স্থাপনে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী।’
মন্ত্রী আরও তুলে ধরেন, ‘বাংলাদেশ ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে জাতিসংঘের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপরও করেন গুরুত্বারোপ।
হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পুলিশ অত্যাধুনিক ও উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তার ভাষ্য, প্রচলিত ইউনিটের তুলনায় এসব ইউনিট সোয়াত, র্যাপিড রেসপন্স, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ, ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনা, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার অপরাধ তদন্ত, নৌ-কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ দক্ষ।
তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সমঝোতা স্মারক সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেবে। আলোচনাকে সফল করতে এবং প্রস্তাবিত সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের স্বনির্ভর ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ দল মোতায়েনেও প্রস্তুতির কথা জানান।
আলোচনার শেষপর্বে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকাতলে বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




