২২ বছরের পেশা
পুকুরের পানি বিক্রি করে চলে সংসার

প্রায় ২২ বছর আগে জীবিকার তাগিদে এ কাজ শুরু করেন রউফ। ছবি: আগামীর সময়
সকাল গড়ানোর আগেই একটি ভ্যানে ১০টি কলস সাজিয়ে বেরিয়ে পড়েন আব্দুর রউফ। গন্তব্য শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের পুকুর। দিনভর সেই পুকুরের পানি কলসে ভরে আবার ভ্যানে করে পৌঁছে দেন পৌর সদরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্টে ও চায়ের দোকানে। এভাবেই ২২ বছর ধরে পুকুরের পানি বিক্রি করেই চলছে তার সংসার।
শ্যামনগর পৌরসভার বাদঘাটা গ্রামের ৩৯ বছর বয়সী রউফ স্থানীয় বাজারে এক পরিচিত মুখ। ভ্যানে কলস বোঝাই করে ঘুরে বেড়ানো এ মানুষটিকে সবাই চেনেন তার ব্যতিক্রমী পেশার কারণে।
প্রায় ২২ বছর আগে জীবিকার তাগিদে এ কাজ শুরু করেন রউফ। তখন প্রতি কলস পানি সরবরাহ করে পেতেন মাত্র ৫০ পয়সা। সময় বদলেছে, বেড়েছে খরচ; কিন্তু বদলায়নি তার কাজের ধরন। এখন প্রতি কলস পানির জন্য তিনি পান ৪ টাকা। প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ ভ্যান পানি সরবরাহ করেন। সেখানে প্রতিটি ভ্যানে থাকে ১০টি কলস। সেই হিসাবে সারা দিনের পরিশ্রম শেষে তার আয় দাঁড়ায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার মতো।
রউফের ভাষায়, ‘শুরুতে খুব কষ্ট ছিল। ৫০ পয়সা কলস পাইতাম। এখন ৪ টাকা পাই। আয় একটু বাড়ছে; কিন্তু খরচও তো অনেক বেড়েছে। তাও আল্লাহর রহমতে এই দিয়াই সংসার চালাই।’
তার এ আয়েই চলে পরিবারের পাঁচ সদস্যের সব খরচ। সংসারের চাহিদা খুব বেশি নয়। তবে নিয়মিত আয়ের এ পথটুকুই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী সাকাত আলী বলেছেন, ‘পানিতে লবণাক্ততার কারণে টিউবওয়েলের পানি দিয়ে রান্না করা যায় না। পুকুরের পানি ব্যবহার করলে ভাত, ডালসহ সবকিছুর মান ভালো থাকে, স্বাদও ঠিক থাকে। পানি বিক্রেতারা ভ্যানে করে দোকানে পানি পৌঁছে দিয়ে যান।’




