আসিয়ান কাপ নিয়ে যা বললেন থমাস ডুলি

বাংলাদেশ ফুটবল দলের হেড কোচ থমাস ডুলি
দুটি ফিফা উইন্ডো যুক্ত করে ফিফা সদস্য দেশগুলোকে দিয়েছে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ। ২১ থেকে ৪ অক্টোবর সারা দুনিয়ায় থাকবে ফিফা উইন্ডো। এ সময় ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে হবে ফিফা আসিয়ান কাপ। ভিন্নধর্মী এই টুর্নামেন্টে খেলার প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশও। ভারত শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করায় হামজা চৌধুরীদের সামনে অন্তত চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ এসেছে। তবে কেবল আসিয়ান কাপ নয়, জাতীয় দলের হেড কোচ থমাস ডুলি অন্য দুটি বিকল্পও মাথায় রেখেছেন।
আসিয়ান কাপে খেলার প্রস্তাব আসার আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন দুটি সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছিল। প্রথমত, ঘরের মাঠে তিন বা চার দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়ত, কিরগিজস্তানে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে খেলা নিয়ে আলোচনা।
থমাস ডুলির প্রাথমিক পরামর্শ ছিল ঘরের মাঠে এমন দলগুলোকে উড়িয়ে আনা, যাদের হারিয়ে সাফের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে নিতে পারে তার দল। তালিকায় ছিল মঙ্গোলিয়া, চীনা তাইপে, লাওস, কম্বোডিয়ার মতো দল। এছাড়া বাফুফের কর্তারা কিরগিজস্তানের একটি প্রস্তাব রেখেছিল বিবেচনায়। জানা গেছে, কিরগিজরাও তিন বা চার দল নিয়ে নিজ দেশে আয়োজন করতে চায় একটি টুর্নামেন্ট। যেখানে কিরগিজরা ছাড়াও খেলার কথা লেবাননের মতো দলের। তবে সেই টুর্নামেন্টে নেতিবাচক ফলের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকিও বেশি ডুলির মতে।
শনিবার বাফুফে ভবনে তিনটি বিকল্পের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলেছেন কোচ। আসিয়ান কাপকে একটা বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি— ‘ওরা (আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষরা) আমাদের প্রতিবেশী দেশ। শক্তিমত্তায় ওরা আমাদের চেয়ে এগিয়ে। ওদের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললে আমরা নিজেদের ভুলগুলো শনাক্ত করতে পারব এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারব। এই টুর্নামেন্টটি আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ হতে পারে, যেখানে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাব।’
শেষ পর্যন্ত আসিয়ান কাপে না খেলা হলে বাকী দুই বিকল্পকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কোচ— ‘আমার মনে হয়, এটি একটি চমৎকার প্রস্তুতি হবে। তবে এর চেয়েও ভালো হতো যদি আমরা ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলতে পারতাম। আমি জানি যে আসিয়ান কাপে গিয়ে খেললেও সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের অভাব হবে না— আমরা যেখানেই যাই না কেন, বাংলাদেশি দর্শকরা আমাদের সমর্থন দিতে উপস্থিত থাকেন। আমাদের নিজেদের মাঠে যে দলগুলোর বিপক্ষে খেলা সহজ হতো, আসিয়ান কাপের ম্যাচগুলোতে তাদের হারানোর লড়াইটা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হবে। ঘরের মাঠে খেললে সাধারণত একটি দলের যে মানসিক আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে, কঠিন ম্যাচগুলোর জন্য সেটি খুব জরুরি। আর আমরা সবাই জানি সাফ কতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আমরা ২৩ বছর সাফের শিরোপা জিততে পারিনি। তাই এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ নিখুঁত হওয়া দরকার। আমি এমন কিছু ম্যাচ চাই, যেখানে জয় পেয়ে দল আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে।’
কিরগিজস্তানে প্রস্তাবিত সফরকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ কোচ— ‘আরেকটি বিকল্প হলো কিরগিজস্তান সফর। যেখানে হয়ত আমাদের খেলতে হবে লেবানন বা কিরগিজস্তানের মতো দলের বিপক্ষে। পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়া গিয়ে যদি আমরা সেই ম্যাচগুলোতে শোচনীয়ভাবে হেরে যাই, তবে দলের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে পড়বে— যা হবে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি। তাই আমরা এখনো সেরা বিকল্পটির অপেক্ষায় আছি। আশা করি সবকিছু ইতিবাচক দিকেই যাবে— হয় আমরা দেশের মাটিতে নিজস্ব টুর্নামেন্ট খেলব, না হয় আসিয়ান কাপে অংশ নেব।’
যেটাই হোক, সামনের ফিফা উইন্ডো হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে একটা ভালো প্রস্তুতিও নেওয়া চাই দলের। সেটা নিয়েই চিন্তার ভাঁজ ডুলির কপালে। ঘরোয়া মৌসুম নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তাই তাকে ভাবাচ্ছে ভীষণ। তারপরও কোচের আশা, কঠিন পরিস্থিতি সামলে দ্রুতই আসন্ন উইন্ডো ও নভেম্বরের সাফের প্রস্তুতি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পারবেন তিনি।







