ঘরোয়া লিগ ও ফুটবলারদের ফিটনেস ভাবাচ্ছে ডুলিকে

সংগৃহীত ছবি
তিন ধাপ বেড়ে দলবদলের শেষ দিন ঠিক হয়েছে ১৯ আগস্ট। তাতে ২১ আগস্ট ঘরোয়া মৌসুম শুরু নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। শীর্ষ লিগের বেশিরভাগ দল চরম অর্থ সংকটে রয়েছে, বেশিরভাগই এখনো প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করেনি। জাতীয় দলের ফুটবলারদের সময় কাটছে শুয়ে-বসে। এর মধ্যেই ফিফার আমন্ত্রণে আসিয়ান কাপে খেলার লোভনীয় প্রস্তাব ইতিবাচক বিবেচনায় রেখেছে বাফুফে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর জোড়া ফিফা উইন্ডোতে ইন্দোনেশিয়ায় হবে এই টুর্নামেন্ট। যেখানে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তবে লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় এই টুর্নামেন্টসহ নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি পরিকল্পনা সাজাতে ভুগতে হচ্ছে জাতীয় দলের হেড কোচ থমাস ডুলিকে।
এ বছর দলবদল নিয়ে সাড়া নেই বেশিরভাগ দলের। মোহামেডান এবং এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলা ফর্টিস এফসি ও বাংলাদেশ পুলিশ এফসি বাদে বাকিরা ভুগছে তারল্য সঙ্কটে। বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী ও ফকিরেরপুল চেষ্টা করছে ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়ে দলবদল করতে। অন্যদের সেভাবে কোন সাড়া শব্দ নেই। বাফুফেও হলফ করে আসছে ঘরোয়া মৌসুমের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে পারছে না ক্লাবগুলোর অনিশ্চয়তায়।
এটাই ভাবাচ্ছে জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলিকে— ‘এই বিষয়টি আমাদের প্রস্তুতির জন্য মোটেই সহায়ক হচ্ছে না। কারণ চার সপ্তাহের মধ্যেই ফিফা উইন্ডোর খেলা। খেলোয়াড়রা যদি গত চার বা পাঁচ সপ্তাহ কোনো অনুশীলনের মধ্যেই না থাকে…। অনেকেই শুনেছি ট্রেনিং শুরুই করতে পারেনি। এমনটা হলে, জাতীয় দলের জন্য পুরো বিষয়টি ভীষণ কঠিন হবে। একটি পেশাদার ক্লাবে প্রাক-মৌসুমে খেলোয়াড়দের ফিটনেস আনতেই প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর পুরোপুরি ১০০% ফিট হতে আরও ৫-৬টি বা ৮টি ম্যাচ খেলতে হয়। সেই তুলনায় আমরা এখন বেশ জটিল এক পরিস্থিতিতে আছি এবং আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
অনেকগুলো প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে মার্কিন-জার্মান কোচ। সে সব প্রশ্নের উত্তরগুলো মিললেই তিনি পারবেন নিজের মতো পরিকল্পনা সাজাতে, ‘আমাদের অপেক্ষা করে দেখতে হবে লিগের ভবিষ্যৎ কী হয়। লিগ কবে থেকে শুরু হচ্ছে? আমরা কখন ফুটবলারদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে পাব? ফিফা উইন্ডো শুরু হচ্ছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এরপর আমরা মাত্র ৩-৪টি ট্রেনিং সেশন পাব এবং তার পরপরই ম্যাচগুলো খেলতে হবে। এই কারণেই সবকিছু আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছে না।
‘খেলোয়াড়রা রানিং মৌসুমে থাকবে— তারা এরমধ্যেই ৮, ৯ বা ১০ সপ্তাহ অনুশীলন শেষ করে ৬-৭টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে— এরকম অবস্থায় ছেলেদের পেলে জাতীয় দলে আমরা কৌশলী অনুশীলন করাতে পারতাম। কারণ সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলে কোনো খেলোয়াড়কে নতুন করে ফিট বানিয়ে তোলার সুযোগ বা সময় থাকে না। আমাদের হাতে সেই পর্যাপ্ত সময় একেবারেই নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সাথেই আমাদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’
ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ফুটবলেরা বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছেন থমাস ডুলি। আশার আলো কেটে গিয়ে হতাশার অন্ধকার জেঁকে বসতে শুরু করেছে। এ আর নতুন কী! এমনটাই তো হয়ে আসছে যুগের পর যুগ।






