৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল

ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে আসিয়ান কাপ শেষ করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯৮২ সালে ইরানের কাছে বাংলাদেশ ৯–০ গোলে হেরেছিল। একদিকে বাংলাদেশ দলের ভরাডুবি অন্যদিকে পানশালায় নারী সঙ্গে মত্ত দুই ফুটবলার।
গতকাল আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হারের পর ইন্দোনেশিয়ার এক নারী টুইটারে একটি ছবি প্রকাশ করায় ভীষণ শোরগোল লেগে গেছে। ছবিতে তিন তরুণীর মাঝে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রকে। সাদের বাহুডোরে দেখা যাচ্ছে একজনকে।
তিনজন তরুণীর সঙ্গে সাদ উদ্দিন আর সোহেল রানার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন এলেনা নামের এক ইন্দোনেশিয়ান নারী। ছবিগুলোতে পানশালা বা ডিস্কোর পরিবেশ স্পষ্ট হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের জোরালো ধারণা, মাঠের খেলায় দল যখন ব্যর্থতার সাগরে ডুবেছে, তারপর ফুর্তিতে মেতে ছিলেন এই ফুটবলাররা!
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আগামীর সময়-এর কাছে সোহেল রানা জুনিয়রদাবি করেন, ছবিগুলো দুই মাস আগের নেপালের এক পানশালায় তোলা হয়েছিল। এই মিডফিল্ডার যেভাবে বলেছেন , ‘আমার ওই ইন্দোনেশিয়ান ফ্রেন্ডের (এলেনা) সঙ্গে দুই মাস আগে নেপালে দেখা হয়েছিল। আমাদের এক ফ্রেন্ডের মাধ্যমে ওর সাথে পরিচয়। তো আমরা এখানে ৯-২ গোলে হারার কারণে ও আমাদেরকে একটু ইয়ে করে একটা পোস্ট করে। এখন মানুষ এমনভাবে ক্যাপশন দিচ্ছে যে, আমরা নয় গোল খেয়ে নাকি পার্টি করেছি। কিন্তু টিম হোটেলে আসতে আসতেই আমাদের বারোটা বেজে গেছে।’ নেপালে কেন গিয়েছিলেন- এমন প্রশ্নে তার বক্তব্য, ‘নেপালে আমরা (সোহেল আর সাদ) ঘুরতে গেছিলাম আরকি।’ গতকালের ম্যাচের পর বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না বলেও দাবি করেন সোহেল, ‘এটা কীভাবে সম্ভব? এটা ফিফার ম্যাচ, এখানে যে পরিমাণ সিকিউরিটি থাকে, আপনি নরমালি বের হয়ে গেলেও আপনার ম্যানেজারের পারমিশন লাগবে। ম্যানেজারের পারমিশন ছাড়া আপনি যেতে পারবেন না।’
তবে ওই টুইটারে বলা হয়েছে ‘এইচ ক্লাবের’ কথা, যা আছে জাকার্তায়। নেপালে কোথাও এইচ ক্লাবের শাখা নেই। তাই সোহেল রানা জুনিয়রের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
ঘটনাটি নিয়ে আগামীর সময় কথা বলেছে টিম ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে। ইন্দোনেশিয়া থেকে দুই ভাগে ভাগ হয়ে দেশে ফিরছে দল। আমিরুল ইসলাম ফিরছেন প্রথম ধাপে। বিমানবন্দর থেকে তিনি জানান, ‘ঘটনাটি আমি ফেসবুকে দেখেছি। আমি তো এখন এয়ারপোর্টে। ওদের এমনিতে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ওরা বলেছে, এটা আগের ছবি। দেশে ফিরে এ বিষয়ে আরও ডিটেইলস জানলে বোঝা যাবে।’ এমন শোরগোল দেখে সেই ইন্দোনেশিয়ান তরুণী এলেনা আরেকটি পোস্টে দাবি করেছেন, ছবিটি নেপালের। তিনি লিখেছেন, ‘একটা বিষয় পরিস্কার করতে চাই যে, এই ছবি এবং ভিডিও দুই মাস আগে নেপালে তোলা হয়েছিল। সেখানে কিছু পেশাদার বন্ধুদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। আমার পোস্টগুলোর কারণে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত। আমি সাধারণত ভ্রমণের সময় কম পোস্ট করি, বেশিরভাগই শেয়ার করি দেরিতে। কারণ আমি আমার বর্তমান অবস্থান গোপন রাখতে এবং সেই মুহূর্তটি উপভোগ করতেই বেশি পছন্দ করি।’








