মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা ইনজেকশন, তবুও বেঁচে রইলেন নারী

২০০১ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে বিচার শুরুর দাবিতে শুনানিতে ক্রিস্টা পাইক। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৫ সালের একটি হত্যা মামলায় স্থানীয় সময় বুধবার ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে দুই ডোজ প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়া হলেও তিনি বেঁচে যান। পরে তাকে কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৮ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে ২০০ বছরের বেশি সময় পর কোনো নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।
কারাগারের কর্মকর্তারা পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও পাইক জেগে ছিলেন এবং জোরে নাক ডাকছিলেন। পরে কারাগারের পর্দা নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পরও তার নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়।
পাইক একপর্যায়ে কারা কর্মকর্তাদের দিকে তাকিয়ে তার হাতের অনুভূতি স্বাভাবিক কি না, তা জানতে চান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে সাংবাদিকদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পাইকের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত এবং তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ওষুধ দেওয়ার পরও পাইকের হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। তাকে চিকিৎসা না দেওয়া হলে গুরুতর চিকিৎসাগত প্রয়োজনের প্রতি অবহেলা করা হবে বলেও তারা দাবি করেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগেও এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই হয়েছিল। ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছিলেন। আদালত পাইকের শৈশবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তার সাজা নির্ধারণের সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন।
পরে টেনেসি কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে উচ্চ আদালত আগের স্থগিতাদেশ তুলে দেন। এরপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়রসহ তিনজন বিচারপতি এর বিরোধিতা করেন। সোটোমেয়র বলেন, আপিল আদালতকে পাইকের দাবি পর্যালোচনার সুযোগ না দেওয়ার ফলে সিদ্ধান্তটি ওই আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেছে।
পাইক হত্যার দায় অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবীরা বলেছেন, ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার ধরা পড়েছিল। একই সঙ্গে শৈশবে গুরুতর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
১৯৯৫ সালে টেনেসির নক্সভিলে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সহপাঠী স্লেমারকে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, পাইক তাকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বক্স কাটার দিয়ে আঘাত করেন এবং পাথরের টুকরা দিয়ে মারধর করেন। পরে তার শরীরে শয়তানপূজার সঙ্গে যুক্ত একটি পেন্টাগ্রাম চিহ্নও খোদাই করা হয়।
পাইকের প্রেমিক তাদারিল শিপও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর। তাকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাইকই এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একমাত্র ব্যক্তি।
এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি বুধবার রাতে এ বছরের নির্ধারিত বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বছর টেনেসিতে এটি ছিল দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা। মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়ও এক ঘণ্টার বেশি চেষ্টা করেও শিরায় ওষুধ দেওয়ার পথ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর দেশটিতে মাত্র ১৮ নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে নারীরা মোট সংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ।
সূত্র : সিএনএন




