ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ সময় এসেছে, ট্রাম্পের হুমকি

হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
দ্রুত চুক্তি না হলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ সময় এসেছে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘হয়তো তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা তাদের উড়িয়ে দেব, নাকি চুক্তি করব।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে অচলাবস্থা দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘সময় ঘনিয়ে এসেছে। একভাবে হোক বা অন্যভাবে, খুব শিগগিরই এটি শেষ হবে।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন-ব্যবহৃত বিমানঘাঁটিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় ইরান জড়িত ছিল কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে যুক্তরাজ্য সামলাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এখনই আমরা এটি পরীক্ষা করছি। খুব গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
তিনি বলেছেন, ইরান বর্তমানে গুরুতর সংকটে রয়েছে। দেশটির অর্থ নেই, মুদ্রার মূল্য ভেঙে পড়েছে এবং অর্থনীতি ধসে গেছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ইরানের সামরিক শক্তিও প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের নেতারা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াই করছেন। তবে তারা কী নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কথিত হামলা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা সম্পর্কে সন্তুষ্ট কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প পাঁচ সন্দেহভাজনকে ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেছেন, তাদের ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা তাদের আগেই ধরে ফেলেছি।’ কেন তারা এমনটি করেছে, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ওয়াশিংটনের বাইরে কোয়ান্টিকো মেরিন ঘাঁটিতে সামরিক কর্মকর্তাদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নেতৃত্ব এবং সামরিক শিল্প সক্ষমতা ‘ধ্বংস’ করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবার চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাব পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। চলমান সংঘাত নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে এই যোগাযোগের অংশ হিসেবে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউ ইয়র্কে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ায় ইরানি প্রতিনিধিদলের আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার প্রয়োজন নেই।
ইরানি প্রতিনিধিদলটি ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছিল। সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকও করেছিল।
সূত্র : আল জাজিরা




