পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মিষ্টি

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি লিখেছেন, ‘আমি ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব, আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র আগামীর সময়কে জানিয়েছে, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বুধবার মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ পদত্যাগ করেছেন তিনি।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে দুই শতাধিক ব্যক্তি হামলা চালায়। নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করা হয়। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি স্থায়ী ও তিনটি আধাপাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে টাঙিয়ে দেওয়া হয় সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাইন বোর্ড।
প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে এ ঘটনা ঘটে। দেশে ফিরে বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
সূত্রের দাবি, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার নেপথ্যে মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে দলের কাছে তথ্য আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ওই হামলায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। তিনি বলেছেন, সমিতির সঙ্গে তার নাম যুক্ত থাকলেও ভাঙচুরের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি চান, পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করুক।




