জয়ের নায়ক ইব্রাহিম
ফেলে আসা খারাপ সময়গুলো মনে পড়ছিল বারবার

আগামীর সময়
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুর ম্যাচে ভুটানকে আগের রাতে হারানোর পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দলের ছিল রিকভারি সেশন। তার আগে জয়ের নায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। ভুটান জয়ের পর আবেগে কেঁদে ফেলার ব্যাখ্যাটা সে সময় দিয়েছেন বাংলাদেশের জার্সিতে চার বছর পর গোল পাওয়া এই ফরোয়ার্ড—
প্রশ্ন: কালকের জয়ের পর দলের অবস্থা এখন কেমন?
ইব্রাহিম: সব মিলিয়ে একটা ভালো অবস্থায় আছে দল। ম্যাচ আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম ওইভাবেই হয়েছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল যে কোনো মূল্যে আমাদের ম্যাচটা জেতা। আল্লাহর রহমতে সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।
প্রশ্ন: ম্যাচের পর আপনি কাঁদছিলেন। এতটা আবেগি হয়ে পড়েছিলেন কেন?
ইব্রাহিম: আসলে, অনেকদিন ধরে আমি দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। মাঝেমধ্যে দলে থাকলেও খেলতে পারতাম না। আসলে গোল করার পরে ওই খারাপ সময়গুলোর কথা বেশি মনে পড়ছিল। ২০২২ সালের পর থেকে আমি একটা ম্যাচেও সেরা একাদশে খেলতে পারিনি। কীরকম খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি আমি, ওই সময় ওইটাই মনে কাজ করছিল।
প্রশ্ন: এই ম্যাচেও আপনি প্রথমে বেঞ্চে ছিলেন। দেখেছেন সতীর্থরা অনেক সুযোগ নষ্ট করেছে, চান্স মিস হয়েছে, এগুলো দেখে কি খারাপ লাগছিল?
ইব্রাহিম: গোল করার জন্য কিছু মোমেন্ট দরকার হয়। ওইগুলো আপনাকে আগেই পড়ে ফেলতে হয়। আমি যখনই বুঝতে পারছিলাম আমাদের ডি-বক্সে বল যাচ্ছে, কিন্তু ফিনিশ হচ্ছে না, আমার মনে হচ্ছিল আমি যদি ওখানে থাকি, আমি হয়ত একটা-দুইটা বল পাবো। ওগুলো যদি ভালোভাবে ফিনিশ করতে পারি, আল্লাহর রহমতে গোল করতে পারবো। আমি ওইটাই ট্রাই করেছি।
প্রশ্ন: আপনাদের দলে সত্যিকারের নাম্বার নাইন কেউ নেই। আপনি গোল পেয়েছেন, একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। আপনাকে যদি পরের ম্যাচে কোচ ওই পজিশনে খেলাতে চায় স্ট্রাইকার হিসেবে, আপনি প্রস্তুত থাকবেন কিনা?
ইব্রাহিম: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার তো চেষ্টা থাকবেই। যদি ফরোয়ার্ড লাইনে সুযোগ পাই, তাহলে যে কোনো পজিশনে খেলতে প্রস্তুত।
প্রশ্ন: সেমিফাইনালে মালদ্বীপ কিংবা ভারত আসতে পারে। কি মনে হচ্ছে, তাদের বিপক্ষে গোল করার কোনো সুযোগ থাকবে কিনা?
ইব্রাহিম: অবশ্যই, একজন ফরোয়ার্ড লাইনের প্লেয়ার হিসেবে সবসময় চাইবো দলের জয়ে অবদান রাখতে। যদি সুযোগ পাই, অবশ্যই একই রকম চেষ্টা থাকবে গোল করার এবং করানোর। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ হিসাব করে খেলবো। প্রতিপক্ষ যদি ভারত হয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে কোচ যে নির্দেশনা দেবেন, ওভাবে খেলার চেষ্টা করবো। মালদ্বীপ প্রতিপক্ষ হলে সেভাবেই খেলবো।
প্রশ্ন: তার আগে তো শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচ আছে। কেমন হবে সেই লড়াই?
ইব্রাহিম: শ্রীলঙ্কা কিন্তু অনেক ভালো দল। তবে আমরাও ভালো। এই ম্যাচের আগে দলে হামজা চৌধুরী যোগ দেবেন। আশা করছি তপু দা, সোহেল ভাই, মোরসালিনও সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমি মনে করি আমাদের আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। নইলে বিপদে পড়তে হতে পারে।
প্রশ্ন: সেই ম্যাচে তো হামজা চৌধুরীকেও পেয়ে যাচ্ছেন?
ইব্রাহিম: হামজা ভাই অবশ্যই দলের মোমেন্টাম বদলে দেবেন। আর গত ম্যাচে আমাদের যে ভুলত্রুটি ছিল, কোচ এখনও ভিডিও বিশ্লেষণ করেননি। বিশ্লেষণের পর বুঝতে পারবো কোথায় ভুল হয়েছে। সেগুলো নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের আগে কাজ করবো।



