প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কায় ফিফাকে হুঁশিয়ারি উয়েফার

বিশ্বকাপ ও প্রধান টুর্নামেন্টগুলোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হলেও ফিফার ওপর চাপ কমছে না। ফিফার ওই ব্যর্থ উদ্যোগের জেরে এবার সংস্থাটি এবং মার্কিন বিনিয়োগকারী জোশ কুশনারকে আইনি পদক্ষেপ, সালিশি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানোর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
দ্য টেলিগ্রাফ এবং দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের ভাই, বিনিয়োগ তহবিল ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’-এর প্রধান জশ কুশনারের কাছে পৃথক দুটি চিঠি পাঠিয়েছে উয়েফা। প্রায় ছয় পাতার এই চিঠিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র যেন ধ্বংস বা মুছে ফেলা না হয়।
উয়েফার পক্ষে আইনি প্রতিষ্ঠানটি ফিফা এবং ইনফান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে সমস্ত ইলেকট্রনিক ও হার্ডকপি নথিপত্র, ইমেল, কৌশলগত দলিল, আর্থিক মডেল এবং মূল্যায়ন রিপোর্ট নিরাপদে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি ফিফার ১৮ জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তাদের কাছে থাকা সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সুরক্ষিত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ফিফার প্রধান বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মকর্তা আর্সেন ওয়েঙ্গার, চিফ ফুটবল অফিসার জিল এলিস এবং প্রধান অপারেটিং অফিসার (সিওও) কেভিন লামুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
অন্যদিকে জশ কুশনার ও তার বিনিয়োগ তহবিল ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’-এর কাছে পাঠানো নোটিসেও একইভাবে সমস্ত চুক্তিপত্র, লেটার অব ইন্টেন্ট এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগের দলিলপত্র সাবধানে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। উয়েফা সতর্ক করে জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করে কোনো তথ্য বা প্রমাণ ধ্বংস করা হলে তা আইনগতভাবে ‘প্রমাণ লোপাট’ হিসেবে গণ্য হবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিফা ঘোষণা করেছিল যে, তারা একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠন করবে, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব কুশনারের নেতৃত্বাধীন মার্কিন তহবিলের কাছে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হবে।
তবে এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরেই বিশ্ব ফুটবলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয় যে, এই প্রস্তাব বাতিল না করা হলে তাদের ৫৫টি সদস্য দেশ ফিফার সব ধরনের প্রতিযোগিতা বর্জন করবে। পরে কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। চতুর্দিকে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে গত শুক্রবার শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি থেকে পিছু হটে ফিফা।
পরিকল্পনা বাতিল হলেও ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাটি। শনিবার উয়েফার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফিফা সভাপতির এ ধরনের ‘গোপন ও অস্বচ্ছ’ আচরণ ফুটবল পরিবারকে হতাশ করেছে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরগুলো ব্যক্তিগত বা করপোরেট স্বার্থে বিক্রির এই প্রচেষ্টার পেছনে ফিফা আর কোনো ছাড় পাবে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।







