ফিরল ‘না’ ভোট, বন্ধ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার পথ
- কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলেই ব্যালটে থাকবে ‘না’ ভোট
- মনোনয়ন ও হলফনামায় তথ্য দেওয়া সহজ করল ইসি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মনোনয়নপত্র, হলফনামা, প্রতীক তালিকায় যেসব সংশোধন পরিপত্রের মাধ্যমে হয়েছিল, এবার এ-সংক্রান্ত বিষয় গেজেট করে বিধিমালায় যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধন এনেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায়। এ সংশোধনের মধ্য দিয়ে বন্ধ হচ্ছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ। নতুন এই বিধিমালায় ফেরানো হয়েছে ‘না’ ভোট। অবশ্য, কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলেই ‘না’ ভোটের সুযোগ থাকবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত বিধিমালায় এসব সংশোধন গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসরণে, ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধন করা হয়। এর আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না ভোটের বিধান চালু হয়েছিল প্রথমবারে মতো। পরের বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেই ‘না’ ভোটের বিধান নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়। যে কারণে বিএনপি-জামায়াত জোটের অংশগ্রহণ ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে আওয়ামী লীগে জোটের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে ‘না’ ভোটের বিধান যদি বাতিল না করত, তাহলে ২০১৪ সালের নির্বাচন ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ ভোট হতো না।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশন ‘না’ ভোট বিধান চালুর প্রস্তাব দেয় সরকারের কাছে। তবে, এ এম এম নাসির উদ্দিনের নির্বাচন কমিশন ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেটি কার্যকর হয়নি।
ইসির সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো প্রার্থী জামিনে মুক্ত থাকলে হলফনামার সঙ্গে জামিন পাওয়ার সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়ার বিধানটি এখন ঐচ্ছিক। অর্থাৎ জামিনের কোনো কপি হলফনামার সঙ্গে না দিলেও চলবে। এ ছাড়া প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্ন জমা-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়াও ঐচ্ছিক করা হয়েছে।
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীর তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও সংশোধিত বিধিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলে ওই আসামিকে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে বোঝানো হবে, বিষয়টি এবার ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়নপত্রে (ফরম-১) প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নাম্বার দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে শুধু প্রার্থীর অ্যাকাউন্ট নাম্বার ব্যবহার করা যেত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের দলীয় প্রতীকসহ নিবন্ধন পুনর্বহাল, এনসিপিসহ নতুন দলের নিবন্ধন এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিতের পর ইসির সংরক্ষিত প্রতীক তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন করা হয়। গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন এনে গেজেট জারি করা হলেও পরে বিএনপিসহ অংশীজনদের দাবির মুখে বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন।
ভোটের পর বিএনপি সরকার বেশ কিছু উপজেলা গঠনসহ প্রশাসনিক বিন্যাস করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ ১১টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত গেজেট করা হয়েছে। এবার ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ইসির নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিধিমালায় যুক্ত করা হলো।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় তথ্য দেওয়া সহজ করা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার সুবিধার্থে করণিক ত্রুটি ও মার্কার ক্রমবিন্যাসেও সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক তালিকা বহাল রয়েছে।



