ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথা ঘুরল ইসির

সাংবাদিকদের মুখোমুখি নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ছবি: আগামীর সময়
আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে সাত ধাপে হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন- গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাতে সরকারের ভিন্নমত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
এই টানাপড়েনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বললেন, নভেম্বরে এই নির্বাচন শুরু করা যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। এই নির্বাচন কমিশনারই গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এবার ইউপি নির্বাচন হবে সাত ধাপে, ১২ নভেম্বর হবে শুরু।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব ইসির নয। তবে সরকারের অনুরোধে তারা এই নির্বাচনটি আয়োজন করে দেয়।
ইসি দিন-তারিখ ঠিক করার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেছিলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এরপরই আজ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর পিছু হটে নির্বাচন সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক যে পরিকল্পনা ছিল, সে পরিকল্পনা নিয়ে তারা সবাই মতামত দিয়েছেন। আমরা এটা নিয়ে কমিশনেও বসব।’
‘আমাদের এই নির্বাচনটি যতটা সম্ভব ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউপি নির্বাচনে আয়োজন যে কঠিন হবে, সভায় সেই মতামত পেয়েছে ইসি।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘এবারে বন্যার কারণে বিভিন্ন ধরনের যে ইন্টারভেনশন হয়েছে, তার প্রভাব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে পড়েছে। তারা এখনো সেখান থেকে পুরোপুরি কাটিয়ে উঠছে না। পাশাপাশি তারা আমাদের কাছে কয়েকটি অনুরোধ করেছেন। এর অন্যতম হলো, যাতে পরীক্ষাগুলো কোনোভাবে ব্যাহত না হয়।’
ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদেরই কাজে লাগাতে হবে ইসিকে। সেটাও সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য প্রশিক্ষণ, সমন্বয় এবং নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু একই সঙ্গে তারা যেন তাদের মূল্যায়নের কাজ করতে পারেন, প্রাক-প্রস্তুতির কাজগুলো করতে পারেন এবং পরীক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, বিষয়গুলো তারা বলেছেন।
‘আমরা বলেছি, এগুলো অবশ্যই জেনুইন কনসার্ন এবং এগুলো আমরা অ্যাড্রেস করব। আমরা উপলব্ধি করেছি, আরও দু-একটি সাইডলাইন ওয়ার্ক আমাদের করতে হবে। সাইডলাইন কো-অর্ডিনেশনের কাজ আছে, এর মধ্যে আমাদের বাজেট প্ল্যানিংও রয়েছে। সেটাও অতি শিগগির আমরা সম্পন্ন করব। এগুলো সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ আপনাদের জানাব।’
নানা পরীক্ষা থাকায় সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের সময় বের করাও কঠিন হচ্ছে ইসির জন্য।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘এবারের স্পেসটা খুব টাইট। পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে প্রায় পরীক্ষা রয়েছে। খুবই কম গ্যাপ পাওয়া গেছে। আমরা দুটো জায়গায় নির্বাচন ঢুকিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার দেখতে হবে, আজকে যে উপাত্ত পেয়েছি, তার ভিত্তিতে সেগুলো আদৌ সম্ভব কি না?
জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে আবার রমজান শুরু হবে, তাও ভাবতে হচ্ছে ইসিকে।
কারণ রোজার পরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর জুনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে কিছুটা ফাঁকা সময় মিলবে।
‘এবার স্পেসগুলো খুব টাইট। এই টাইট স্পেসের মধ্যে কীভাবে আমরা সবকিছু অ্যাকোমোডেট করব, সেটা নিয়ে আরও কিছু সাইডলাইন ওয়ার্ক করা দরকার আছে,’ বলেন সানাউল্লাহ।





