গ্যাস বাড়তেই শিল্পে উৎপাদন ৭০ শতাংশ
- ৫ ঘণ্টার লোডশেডিং নেমেছে দেড় ঘণ্টায়
- সাভার-আশুলিয়ায় কাটেনি সংকট
- ঢাকার বাইরে গ্যাস সরবরাহে উন্নতি

সংগৃহীত ছবি
দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতিতে স্বাভাবিক হয়ে আসছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ ২ পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চিতে পাউন্ড) থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৭ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে। একই সঙ্গে কমছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। যেখানে আগে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকত না, সেখানে এখন তা কমে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় নেমেছে বলে জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
তারা জানালেন, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাভার, আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জ এলাকায় সরবরাহ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এসব এলাকায়ও দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। জ্বালানি সংকটে যেখানে উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে এসেছিল, তা আবার বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু আগামীর সময়কে বললেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ বেড়েছে। কোথাও কোথাও চাপ ৭ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে, আবার কোনো কোনো এলাকায় ২ পিএসআই পর্যন্ত। তবে কিছু এলাকায় এখনো পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া ও মানিকগঞ্জ এলাকা। এসব এলাকায় গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার মনোযোগী হওয়া উচিত।
বিদ্যুতের লোডশেডিং প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, আগে যেসব এলাকায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকত না, সেখানে এখন তা এক থেকে দেড় ঘণ্টায় নেমেছে। ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে জ্বালানি পরিস্থিতির এ উন্নতি ধরে রাখতে আরও মনোযোগী হতে হবে সরকারকে।
সরকারি তথ্যমতে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ২৬০-২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট। গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২৬০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। ২১ জুলাই দুর্ঘটনার আগপর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬৪ কোটি ৯০ ঘনফুট। সোম এবং মঙ্গলবার এলএনজি থেকে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বললেন, অধিকাংশ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যেখানে গ্যাসের চাপ শূন্যের কাছাকাছি ছিল, সেখানে এখন প্রায় ২ পিএসআই চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এতে পোশাক কারখানার ফিনিশিংয়ের কাজ ভালোভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। তবে ওয়াশিং ও ডাইংয়ের মতো কাজে সাধারণত ৪ থেকে ৬ পিএসআই চাপ প্রয়োজন।
‘বিদ্যুতের লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে লোডশেডিং প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল, তা এখন নেমে এসেছে প্রায় ১৫ শতাংশে। গতকাল ছিল মাত্র দেড় ঘণ্টা। এতে কারখানার সামগ্রিক উৎপাদন কার্যক্রমে বেড়েছে গতি। অনেক কারখানায় উৎপাদন উন্নীত হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে’— তথ্য দিলেন তিনি।
বিসিএমইএ সভাপতি মঈনুল ইসলামের ভাষ্য, সিরামিক খাতে শতভাগ উৎপাদনে সাধারণত ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। তবে কারখানাগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বর্তমানে ন্যূনতম ৫ পিএসআই চাপেও অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব। গতকাল অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ বেড়েছে। তবে এই উন্নতি কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিটিএমএ পরিচালক মিজানুর রহমান বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার সদস্য কারখানার মালিকরা গ্যাস সরবরাহের উন্নতির কথা জানিয়েছেন। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে এই সরবরাহ পরিস্থিতি ধরে রাখা জরুরি।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্র বলছে, চলতি মাসেই ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরে আরও ১১টি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলছে।



