প্রশ্নের মধ্যেই অনুমোদন পেল মেট্রোরেলে ৩ প্রকল্প

একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
ঢাকার নতুন তিনটি রুটের মেট্রোরেল নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উঠেছিল একনেকে। এর মধ্যে আগের দুটি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন একটিতে পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে তিনটি প্রস্তাবই অনুমোদন পেয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
চার বছর আগে মেট্রোরেল চালুর পর রাজধানীর গণপরিহন ব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু আছে এই বৈদ্যুতিক ট্রেন।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) উন্নয়ন পরিকল্পনায় মেট্রোরেলের মোট ছয়টি রুটের কথা রয়েছে। তার মধ্যে এমআরটি-৬ লাইনটি ২০২২ সালে চালু হয়।
এমআরটি-৫ সাউদার্ন নতুন প্রকল্প হিসেবে আজ একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে এমআরটি-১, এমআরটি-৫ (নর্দার্ন) প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধিত হয়েছে প্রকল্প। তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
সচিবালয়ে একনেক সভার পর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে ফিরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) সভার সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের জানান।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোলাইন স্থাপনে এমআরটি-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি বৈঠকের কার্যতালিকায় ছিল। কিন্তু বাকি দুটি না থাকলেও সরাসরি সভায় তোলা হয় এবং পাস হয়। এ দুই মেট্রো রেলের প্রস্তাবিত ব্যয় দুই লাখ চার হাজার কোটি টাকা।
এমআরটি-৫ সাউদার্ন রুটটি গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত। ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
এ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন মীর সাব্বির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী আমলা, রাজনীতিক ও ভারতীয় এজেন্টদের যোগসাজশে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মূল্যায়নের মানদণ্ড এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পছন্দের প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার সুযোগ পায়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সুপারভিশন পরামর্শক নিয়োগে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হয়। পরে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়। প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই চিঠি দেওয়া হয় এবং সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
প্রকল্প অনুমোদনের আগেই পরামর্শক নিয়োগের এ তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগটি করেন মীর সাব্বির।



