‘হেসে কথা বলল, পরদিন শুনি আইসিইউতে’

রাফসান মোহাম্মদ প্রাচুর্য
‘রবিবার রাতে আমার সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলেছে। আমি তাকে ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলাম। আমি বললাম ভালো হয়ে যাবি। এই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। সোমবার শুনি প্রাচুর্যকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।’
কথাগুলো বলতে গিয়ে প্রাচুর্যের বাল্যবন্ধু ও মামাতো ভাই সাফা কাজবিয়ানের গলা ধরে আসে। রাফসান মোহাম্মদ প্রাচুর্য। বয়স মাত্র ২৭। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডেঙ্গুতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। স্বজনেরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না মাত্র এক সপ্তাহের জ্বরে এভাবে চলে যাবে তাদের প্রাচুর্য।
প্রাচুর্যদের বাড়ি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায়। ৪ বোন ৩ ভাই তারা। ভাইদের মধ্যে প্রাচুর্য বড়। বাবা মারা গেছেন ৬ বছর আগে। সাফা তার মামাতো ভাই। পাশাপাশি বাড়ি। দুজন ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। প্রাচুর্যের অসুস্থতার প্রথম থেকেই সাফা পাশে ছিলেন।
প্রথমে তার জ্বর হয়। এর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ৯ সেপ্টেম্বর তাকে ভর্তি করা হয় মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সাফা বলেন, ‘কোনো হাসপাতালে শয্যা খালি পাইনি। কেবিন নেই। সব জায়গায় ডেঙ্গু রোগী বেশি। অনেক হসপিটাল দেখে ওখানে গিয়ে ভর্তি করিয়েছি। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল। রবিবার রাতে আমার সঙ্গে শেষ দেখা ও কথা হয়।’
সোমবার সকাল থেকে প্রাচুর্যের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। মেরিন সিটি হাসপাতালে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তখন পরিবারের লোকজন প্রাচুর্যকে সোমবার রাতে ইমপেরিয়াল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে।
সাফা বলেন, সোমবার তার অবস্থা যে এভাবে খারাপ হয়ে যাবে আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা রাতেই ইমপেরিয়ালে নিয়ে যাই। রবিবার শেষ কথা বলেছে সে। এর পর আর কথা বলতে পারেনি। মঙ্গলবার দুপুরে মারা যায়।
হঠাৎ এমন তরতাজা ছেলেকে হারিয়ে শোকে মুষড়ে পড়েছেন মা মরিয়ম বেগম। তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না তার ছেলে নেই। সামনে ছেলেকে বিয়ে করাবে এমন স্বপ্ন দেখছিলেন মা। কিন্তু এক ডেঙ্গুতে সব শেষ হয়ে গেল।
সাফা বলেন, ‘আমরা সমবয়সী। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে আমরা বড় হয়েছি। হঠাৎ এমন ঘটনা আমি ভাবতে পারছি না। সরকারিভাবে যা বলা হচ্ছে ডেঙ্গু তার চেয়ে অনেক ভয়াবহ। কেউ তার হিসাব রাখছে না। আমার ভাইও এর বলি হলো।’
এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হলো ১৪ জনের। তার মধ্যে ৯ জন এই মাসে মারা যায়। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৩ হাজার ১২৭ জন।




