দরিদ্র তালিকায় খরচ বাড়ল ১৭৯৪ কোটি
- বাস্তবায়ন হবে ফ্যামিলি কার্ডের রেজিস্টারসহ আনুষঙ্গিক কাজ

সংগৃহীত ছবি
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড সফল করতে সংশোধন করা হয়েছে চলমান ‘স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইমপ্রুভ রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ প্রকল্প। কেননা, এতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য দরিদ্রদের তালিকা তৈরির কাজ। অর্থাৎ জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের খুঁজে বের করে তৈরি করা হবে রেজিস্টার। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এখন প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে এসে ১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৯৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ হাজার ৫১৪ কোটি ১১ লাখ এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে খরচ করা হবে ১ হাজার ১৮৫ লাখ টাকা। এদিকে প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। সেটিই থাকবে। এটি বাস্তবায়ন করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর।
এর মধ্যে প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বুধবার এটি অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। রাজধানীর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন হওয়ায় এখতিয়ার অনুযায়ী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী এটি একনেককে অবহিত করতে হয়। সেজন্যই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো— জরিপের তথ্য সংগ্রহকারীদের জন্য ব্যয় ৮২১ কোটি ৯০ লাখ, ফ্যামিলি স্মার্ট কার্ড তৈরির সরঞ্জামে ৫৫০ কোটি, ১৮টি পরামর্শক ফার্মের জন্য ১৮৮ কোটি ৮৪ লাখ এবং ব্যক্তি পরামর্শকের পেছনে যাবে ৪০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আরও আছে, স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৮০ কোটি, ভ্রমণ ব্যয় ১০ কোটি, উৎসব ব্যয় ৫০ কোটি, ডেটা স্টোরেজ খাতে ১২ কোটি এবং প্রিন্টিং অ্যান্ড বাইন্ডিংয়ের জন্য খরচ ১২ কোটি টাকা।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্টার তৈরি করা। এর মাধ্যমে দেশের দরিদ্রদের জাতীয় সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার সেবা সম্প্রসারণ ও সরবরাহ শক্তিশালী করা হবে। এ ছাড়া দরিদ্রদের জন্য নগদ স্থানান্তর (ক্যাশ ট্রান্সফার) কর্মসূচিগুলো শক্তিশালী করা ও দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য জীবিকা সহায়তা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি চারটি নির্বাচিত ভাতার কর্মসূচির সহায়তা ১ কোটি ৩৫ লাখ সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানো, যার ৬০ শতাংশ নারী। সব সুবিধাভোগী শতভাগ ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। সেফটি নেট সুবিধাভোগীদের ৭৫ শতাংশ হবে দারিদ্র্য স্কোর অনুসারে নিম্ন দুই কোয়ান্টাইল থেকে নির্বাচিত। জীবিকা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ২৫ লাখ সুবিধাভোগীকে পৌঁছানো, যার ৫০ শতাংশ হবে নারী। জাতীয় অগ্রাধিকার স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ২০৪১ সালের উন্নত দেশের দিকের ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, বাংলাদেশ সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দরিদ্রদের জন্য জাতীয় সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার প্রাপ্যতা সম্প্রসারণ এবং সেবাদান শক্তিশালীকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।
এর আগে ক্যাবিনেট ডিভিশনের নেতৃত্বাধীনে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটির মোট বরাদ্দ ৭৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার (কম্পোনেন্ট-০১ ও ০৩), সমপরিমাণ টাকায় ১০০ কোটি এবং বাজেট সাপোর্টে (কম্পোনেন্ট-০২) সহায়তা ছিল ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রকল্পের বাজেট সাপোর্টে (কম্পোনেন্ট-০২) ১১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৩ কোটি ডলার বিদ্যমান কম্পোনেন্ট-০১-এ পুনর্নির্ধারণ করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ-সম্পর্কিত কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ, কারিগরি সহায়তা এবং সঠিক ও দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দরিদ্রদের জন্য নগদ স্থানান্তর কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ এবং জীবিকা সহায়তা সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৬ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চলমান প্রকল্পের সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম সমন্বয়পূর্বক বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।



