পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
- মেট্রোরেল লাইন-৫একনেকে উঠছে কাল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পরিকল্পনা কমিশনের চাপে দফায় দফায় ব্যয় কমানো হলেও ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রকল্প অনুমোদনের আগেই কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সুপারভিশন পরামর্শক হিসেবে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের একটি সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এখনো পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে দুর্নীতি হয়েছে— এ কথা বলা যাচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব একনেকের।
সূত্র জানায়, রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে প্রকল্পটির ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে প্রথম দফায় ৬ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা কমিয়ে তা ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা করা হয়। সর্বশেষ আরও ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা কমিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া ঋণ দেবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। বাকি ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।
প্রকল্পের আওতায় গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর ও নাসিরাবাদ হয়ে ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। উড়াল ও পাতাল— দুই ধরনের অবকাঠামোর মাধ্যমে রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে যুক্ত করা হবে।
এদিকে পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে অভিযোগকারী মীর সাব্বির হোসেন গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী আমলা, রাজনীতিক ও ভারতীয় এজেন্টদের যোগসাজশে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, মূল্যায়নের মানদণ্ডও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পছন্দের প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার সুযোগ পায়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সুপারভিশন পরামর্শক নিয়োগে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হয়। পরে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়। প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই চিঠি দেওয়া হয় এবং সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই পরামর্শক নিয়োগের এ তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।
তবে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব এর আগে আগামীর সময়কে বলেছিলেন, পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে রাখায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তারা প্রায় ৯ মাস এগিয়ে রয়েছেন। অনুমোদনের পর প্রক্রিয়া শুরু করলে ৯ মাস পিছিয়ে যেতে হতো। তবে এতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির উদ্দেশ্য নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পের ব্যয়ের বড় অংশ যাবে মেইন লাইন, স্টেশন ও ডিপোর সিভিল ও বিল্ডিং নির্মাণে— ১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বা মোট ব্যয়ের ৩৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ও রেলওয়ে সিস্টেমে ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুইপমেন্টে ৪ হাজার ৮২১ কোটি ২৩ লাখ এবং পরামর্শক খাতে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ, পুনঃ অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩২ লাখ, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯৩০ কোটি ৯৮ লাখ এবং যানবাহন ভাড়ায় ৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে।



