চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের মারামারি

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা এবং গ্রাহকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও তার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একদল লোক এসে তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে ওই সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি পক্ষ দাবি করে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু বহিরাগতরা এসে হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায়। চাকরি হারানোর পর তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ তাদের চাকরিচ্যুত করেছে বলে দাবি।
এদিকে, সচেতন গ্রাহক ফোরামের সহসভাপতি শামিম হাসনাইন দাবি করে বলেন, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় খবর পেয়ে তারা ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এস আলমের আমলে অনিয়ম ও ভুয়া সনদের মাধ্যমে বহু বিতর্কিত নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকের পর্ষদ যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখার উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষায় অংশ নেননি। এখন ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রাহকরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
এদিকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ দ্রুত পুনর্গঠন করে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেছেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। তাই দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেছেন, কর্মসূচির বিপরীত অবস্থানে থাকা পক্ষ বা বহিরাগতদের প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত সরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
ফোরামের সহসভাপতি মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন তিনি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের পল্টন শাখার এক গ্রাহক বলেন, তিনি প্রায় ৯ বছর ধরে ব্যাংকটির নিয়মিত ব্যবসায়ী গ্রাহক। কিন্তু ব্যবসার প্রয়োজনেও এখন ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে পারছেন না।
ওই গ্রাহকের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীল খাতকে দুর্বল করতে ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় বহিরাগতদের হামলায় তিনি আহত হয়েছেন। এরপরও গ্রাহকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানাতে তিনি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।



