সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের আদেশ স্থগিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি

সংগৃহীত ছবি
১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করে শুল্ক-কর সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের আদেশ স্থগিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আদেশ জারির মাত্র ছয় দিনের মাথায় অধিকতর পর্যালোচনার জন্য এটি স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৮ শাখা। মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান মোহাম্মদ খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, এনবিআরের জারি করা আদেশটি অধিকতর পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আপাতত আদেশটি স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ‘আদেশ নং-৫১/২০২৬/কাস্টমস/৫১৯’ জারি করে এনবিআর। এতে কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বিদ্যমান বন্ড সুবিধা বাতিল করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রকৃত রপ্তানিকারকদের সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা বিটিএমএর প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক-কর সমপরিমাণ ১০০ শতাংশ নিঃশর্ত ও অব্যাহত ব্যাংক গ্যারান্টি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে।
আমদানিকৃত সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক শতভাগ রপ্তানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করার বিধান রাখা হয়।
২০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত টেক্সটাইল শিল্পের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মূলত দেশীয় স্পিনিং মিলের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।
তবে এনবিআরের আদেশের পর পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, কাঁচামাল আমদানির সময় বিপুল পরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হলে কারখানাগুলোর চলতি মূলধনে চাপ বাড়বে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে নিটওয়্যার, ডেনিমসহ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো এ সিদ্ধান্তে বেশি চাপে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
অন্যদিকে, স্থানীয় স্পিনিং মিল মালিকদের দাবি, বন্ড সুবিধায় বিদেশি সুতা আমদানির কারণে দেশীয় মিলগুলো তাদের উৎপাদিত সুতা বিক্রি করতে পারছে না। ফলে স্থানীয় শিল্পের স্বার্থে দেশীয় সুতা ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।
এ অবস্থায় দেশীয় সুতা উৎপাদক ও পোশাক রপ্তানিকারক—দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এনবিআরের আদেশটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পর এনবিআর কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।



