জিবুতিতে পালিয়েছেন শত শত ইয়েমেনি

জিবুতির উদ্দেশে যেতে অপেক্ষায় ইয়েমেনের নারী ও শিশুরা। ছবি: এক্স পোস্টের ভিডিও থেকে নেওয়া
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে লড়াইয়ের কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ দেশ ছেড়ে জিবুতিতে পালিয়েছে। গতকাল শনিবার জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ জানিয়েছেন এ তথ্য।
ইয়েমেনের ঠিক বিপরীত দিকে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে জিবুতি অবস্থিত। দেশটির কাছেই রয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে এডেন উপসাগর থেকে লোহিত সাগরে যাওয়া যায়।
ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ১ হাজার ৪০০ শরণার্থী জিবুতিতে পৌঁছেছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ইয়েমেনে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সর্বশেষ লড়াই শুরুর পর গত এক সপ্তাহেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।
এদিকে, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে এগিয়ে যাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের আকস্মিক এই অগ্রযাত্রায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
স্থানীয় ত্রাণকর্মীদের বরাতে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, অনেক গ্রাম পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। আবার বহু পরিবার হুতি সম্মুখসারির কাছে আটকা পড়ে খাবারের সংকটে রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে দ্রুতগতির অভিযানে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের উপকূল ঘেষে একের পর এক শহর দখল করেছে। এসব এলাকা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। আগের সেই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিহত এবং আরও বহু মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিলেন।
আইওএমের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক মুখপাত্র জো লোরি কায়রোতে বলেছেন, ‘ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে।’
‘অনেকে শহর ছেড়ে নিজেদের মালপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ রয়েছে’, বলছিলেন মুখপাত্র জো লোরি।
সূত্র : আল জাজিরা





