আগামীর সময়কে হিউ জ্যাকম্যান ও কেট হাডসন
জায়গাটা আলাদা, কিন্তু তাড়নাটা একই

হিউ জ্যাকম্যান ও কেট হাডসন
বাস্তবজীবনের দম্পতি মাইক ও ক্লেয়ার সারদিনা ‘লাইটনিং অ্যান্ড থান্ডার’ নামে নীল ডায়মন্ডের গানের ট্রিবিউট ব্যান্ডে সংগীত পরিবেশন করতেন। তাদের বায়োপিক ‘সং সাং ব্লু’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন হিউ জ্যাকম্যান ও কেট হাডসন। দুই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন জনি হক
‘সং সাং ব্লু’ সিনেমায় সংগীত নিয়ে আপনাদের উপলব্ধি কী?
হিউ জ্যাকম্যান: এটি বকশিশনির্ভর সংগীতশিল্পীদের’ প্রতি একধরনের ভালোবাসার চিঠি। কথাটা শ্রদ্ধা থেকেই বলছি। এমন অসংখ্য অসাধারণ সংগীতশিল্পী আছেন, বকশিশের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। তারপরও তারা সংগীতচর্চা করে যান, কারণ তাদের এটা করতেই হয়। তারা গান ভালোবাসেন। তারা যেকোনো জায়গায় গান করেন। সেটি কোনো থাই রেস্তোরাঁ হতে পারে, আবার পার্ল জ্যাম ব্যান্ডের কনসার্টও হতে পারে। জায়গাটা আলাদা; কিন্তু তাড়নাটা একই।
কেট হাডসন: যাদের ভেতরে সংগীত আছে, তাদের প্রত্যেকেরই সুরের সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রেমের গল্প থাকে। যখন কোনো কিছু কাউকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, কোনো কথা না বলেও সংযোগ তৈরি করতে পারেন, শুধু গান গেয়ে— সেটি বিশেষ এক ধরনের সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায়।
হিউ, মাইক এবং সারডিনার কোন দিকটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছে বেশি?
হিউ: মাইকের অদম্য জেদ আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। সে স্বপ্নটা কখনো ছেড়ে দেয়নি। কেন জানি না স্পিরিচুয়াল একটা জায়গা থেকে আমার মনে হয়, এই সিনেমা তৈরি হওয়ার পেছনে মাইকের একটা বড় ভূমিকা আছে। তার ভূমিকায় অভিনয়ের সুবাদে তাকে নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। এখন তার মৃত্যুর ২০ বছর পর আমরা তাকে নিয়ে কথা বলছি।
দুজনার সম্পর্ক কীভাবে নাড়া দিয়েছে আপনাদের?
হিউ: তারা অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু সবসময় তারা একে অন্যের ওপর বিশ্বাস রেখেছে এবং একে অন্যের পাশে থেকেছে। তাদের সম্পর্কের এসব দিক আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে।
কেট: হিউর সঙ্গে আমি একমত। এর সঙ্গে আরেকটা বিষয় যোগ করতে চাই, সেটা হলো তাদের প্রেমের গল্প। যখন এমন কারও সঙ্গে দেখা হয় আমাদের, যার মধ্যে একই অনুভূতি আছে— সেই অনুভূতি শুধু তারাই বুঝতে পারে। আমার মনে হয়, মাইক ও ক্লেয়ার সংগীতের মধ্য দিয়েই নিজেদের জীবনকে অনুভব করেছে, ভালোবেসেছে এবং একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সিনেমাটিতে একসঙ্গে দারুণ কয়েকটি গান করেছেন। বিশেষ করে পিয়ানো আর গিটার নিয়ে আপনাদের প্রথম দৃশ্য মন ছুঁয়ে গেছে। গানগুলো এত সুন্দর হবে সেটা কি বুঝতে পেরেছিলেন রিহার্সেলের সময়? শুটিংয়ের দিন?
হিউ: মনে পড়ছে, চিত্রনাট্য পড়া শেষ হওয়ার পর কেট আমার দিকে তাকিয়েছিল। সেদিন সবাই কাঁদছিল। চিত্রনাট্য পড়ার পর এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।
কেট: সত্যিই, সবাই কাঁদছিল।
হিউ: কেট আমার দিকে ফিরে বলল, ‘আমরা দুজন যদি ঠিকভাবে কাজ না করতে পারি, তাহলে সিনেমাটা কাজ করবে না।’ মনে মনে ভাবলাম, ‘কেট একদম ঠিক বলেছ।’ আর ক্রেগ (পরিচালক ক্রেগ ব্রুয়ার) দারুণ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমরা চিত্রনাট্যের আদ্যোপান্ত পাঠের পর একেবারে সরাসরি রেকর্ডিং স্টুডিওতে চলে যাই। সিনেমায় আমরা কিছু গান সরাসরি গেয়েছি, আবার সবকিছু স্টুডিওতে রেকর্ড করেছি। এটা ছিল ক্রেগের সিদ্ধান্ত। তবে প্রথম দৃশ্যটি আমরা প্রায় পুরোপুরিই লাইভ করেছিলাম।
বিশেষ কোনো গান নিয়ে আলাদা অভিজ্ঞতা আছে?
হিউ: ‘হলি মলি’ গানটি গাওয়ার কথা মনে আছে। আমরা সোফায় গা-হাত-পা ছেড়ে আরামে বসেছিলাম। সামনে শুধু একটা মাইক্রোফোন রাখা হয়েছিল। সেভাবেই আমরা গানটি রেকর্ড করেছিলাম। আর তখনই আমার গায়ে কাঁটা দিয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম, আমাদের দুজনের কণ্ঠ একসঙ্গে দারুণ মানাচ্ছে।
কেট: হিউ যা বলল, সবকিছুর সঙ্গেই আমি একমত। সত্যি বলতে, ‘হলি মলি’ গানটি ছিল সেই বিশেষ মুহূর্তগুলোর একটি। আমরা পাশাপাশি বসে গান গাইছি, একে অন্যের দিকে তাকাচ্ছি। আর স্টুডিও এমন একটা জায়গা, যেখানে নিজেকে ভীষণ মুক্ত মনে হয়। কারণ সেখানে কণ্ঠের প্রতিটি খুঁটিনাটি ধরা পড়ে। শিল্পী হিসেবে নিজের কিছু জিনিস ভালো লাগে, কিছু জিনিস ভালো লাগে না। কিন্তু সেখানে নানা কিছু চেষ্টা করতে হয় এবং নিজেকে সত্যিই মেলে ধরতে হয়। তাই আমাদের জন্য এটা ছিল একে অন্যের সামনে নিজেদের একটু চেনানোর, নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের এবং পরস্পরের সঙ্গে একটা গভীর সংযোগ তৈরির দারুণ সুযোগ। ‘হলি মলি’ সেই মুহূর্তটি তৈরি করে দিয়েছিল।
হিউ: পরে জেনেছি, এ গানই সবসময় তোমার কাছে একটা ‘নর্থ স্টার’ ছিল। তখন সেটা জানতাম না। কারণ সিনেমায় গানটি যে জায়গায় এসেছে, সেখানে এটি মাইক ও ক্লেয়ারের সম্পর্কের বেলায় একটা বিশাল মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
কেট: ঠিক তাই!



