১৩ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শিবিরের ‘রোড টু সিরাহ—২৬’ সম্পন্ন

শুক্রবার আইইবি মিলনায়তনে জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিরোধীদলীয় নেতা
১৩ হাজার ৪৫৬ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ‘রোড টু সিরাহ—২৬’ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, তিনটি গ্রুপে মোট ১৩ হাজার ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। অনলাইন এমসিকিউ পরীক্ষার পর ৬৩৫ জন চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন। চূড়ান্ত ফলাফলে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম হন বরিশালের খাদিজা তুবান শারা, ‘খ’ গ্রুপে ঢাকার রঈসুল ইসলাম এবং ‘গ’ গ্রুপে রাজশাহীর আতিয়া বিলকিস তামান্না। তিনজনই ওমরাহ পালনের সুযোগসহ বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন। তাদের মধ্যে ‘ক’ গ্রুপের বিজয়ী খাদিজা তুবান শারাকে তার পিতাসহ ওমরাহ পালনের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) সমগ্র বিশ্বজাহানের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার আদর্শ অনুসরণ করাই মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর।’
তিনি বললেন, ‘অতীতে মুসলমানরা রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ধারণ করে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর বিপর্যয় ও অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হলো আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে সরে যাওয়া।’
প্রতিযোগীদের উদ্দেশে তিনি বলছিলেন, ‘সীরাতচর্চা যেন শুধু পুরস্কার বা সনদ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন সারা জীবনের জন্য আলোকিত পথচলার সূচনা হয় এবং অর্জিত জ্ঞান মানবতার কল্যাণে কাজে লাগে।’
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বললেন, ‘সীরাত পাঠের উদ্দেশ্য শুধু পুরস্কার বা সনদ অর্জন নয়। রাসূল (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ধারণ করে সমাজে তা ছড়িয়ে দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—আল্লামা কামাল উদ্দিন জাফরী, অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদিন, অধ্যাপক শামছুল আলম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ।



