আরব আমিরাতের সঙ্গে কেন সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

এআই
আবু ধাবির একের পর এক ‘উসকানিমূলক বা বৈরী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আলজেরিয়া। তবে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি দেশটি।
আলজেরিয়ার ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ইউএইর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এক্সে বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক ‘ধাঁধা ও এমন সব সংকেতের’ ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়, যার অর্থ বুঝতে আলাদা করে ব্যাখ্যা করতে হয়। বরং এর ভিত্তি হওয়া উচিত ‘যুক্তিবোধ, যোগাযোগ এবং স্বার্থের বিষয়ে স্পষ্টতা’।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে ক্রমেই টানাপোড়েন বেড়েছে। আলজেরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যম ইউএইর তীব্র সমালোচনা করে আসছে এবং দেশটিকে আঞ্চলিক বিভেদ উসকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করছে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউএইর কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেগুলোকে আর গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় বলে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ‘সব ধরনের উপায় প্রয়োগ করেও’ কোনো সমাধান হয়নি বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গারগাশ তার বক্তব্যে সরাসরি আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করেননি বা তার মন্তব্যের সঙ্গে আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তের কোনো যোগসূত্রও তৈরি করেননি। তিনি বলেছেন, সফল কূটনীতির জন্য স্পষ্ট অবস্থান, স্বার্থের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং মতবিরোধ মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউএইর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে এবং তা কার্যকর করতে তাকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও ইউএইর অবস্থানও ভিন্ন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, ইউএই এবং আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
সাহেল অঞ্চলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের স্বার্থ ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। গত কয়েক বছরে ইউএই এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। অন্যদিকে, একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আলজেরিয়ার সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি প্রতিবেশীর সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে।
আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন গত বছর বলেছিলেন, উপসাগরীয় সব দেশের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক উষ্ণ, শুধু একটি দেশ ছাড়া। তিনি নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যটি ইউএইর দিকে ইঙ্গিত করছিল।
সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে তিনি ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে নাম না করা ওই দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউএইর সঙ্গে একটি বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া। ২০১৩ সালের মে মাসে আবু ধাবিতে ওই চুক্তি সই হয়েছিল।




