পারস্য উপসাগরে প্রতিশোধের ঝড়
- ৫ ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ায় ১০ জাহাজে ইরানের হামলা
- তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

সংগৃহীত ছবি
গতকাল বুধবার রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে,
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানে মার্কিন
সেনাদের ব্যবহার করা একটি ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং হরমুজ প্রণালির
কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি
তেল ট্যাংকার ধ্বংস করার পর।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী একটি মার্কিন নৌযানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা করার পর ওই ট্যাংকারগুলোয় আঘাত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলার আগে জাহাজের কর্মীদের সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানি ট্যাংকারগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব জাহাজ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অর্থায়ন ও সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এর জবাবে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন মিত্র দেশগুলোর জাহাজও নিরাপদ থাকবে না। আইআরজিসি বাহরাইন ও কুয়েতের বন্দরের কাছে থাকা তেলবাহী জাহাজের কর্মীদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ফলে সামরিক সংঘাত এখন সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।
হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম এমন উচ্চতায় পৌঁছাল তেলের দাম। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা দীর্ঘ হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযানও আটক করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ওই ড্রোন জব্দ করার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করেনি।
এদিকে জর্ডান জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই প্রতিরোধ করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ঘাঁটিতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহতের খবর নেই। তবে তেহরানের দাবি, হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের তেল রপ্তানি নেটওয়ার্কে আঘাত করাই এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেলবাহী জাহাজগুলোর মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হচ্ছিল। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, এ হামলা তাদের অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের কৌশল এবং আন্তর্জাতিক জলপথে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা।
তবে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ এখন শুধু হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। আইআরজিসি জানিয়েছে, চাবাহার বন্দর থেকে গালফ অব ওমান হয়ে আরব সাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ ঘোষণা করা হবে। আইআরজিসির এক মুখপাত্রের দাবি, নির্ধারিত ওই এলাকার মধ্য দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা সীমারেখা পরে ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালির বাইরে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রিত নৌ এলাকা তৈরি করবে ইরান। তেহরানের এই ঘোষণা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ গালফ অব ওমান ও আরব সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।





