ইরানের শাসনব্যবস্থা ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে: নেতানিয়াহু

ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার সময় সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ইরানের শাসনব্যবস্থা ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দক্ষিণ সিরিয়ায় বুধবার ইসরায়েলি সেনাদের পরিদর্শনের সময় তিনি বলেছেন, ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসনের পতন’ ঘটানোই এখন তাদের মূল কাজ।
ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তে মাউন্ট হারমনের সিরীয় অংশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে সঙ্গে নিয়ে সেনাদের পরিদর্শনের সময় তিনি বললেন, ‘এখনও কিছু কাজ বাকি আছে—মূল কাজ হলো ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের পতন ঘটানো। আমরা এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমরা জানি, শেষ পর্যন্ত পুরো অক্ষই ভেঙে পড়বে।’
দক্ষিণ সিরিয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনারা একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করছে।
ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ১৯৭৪ সাল থেকে ইসরায়েলি ও সিরীয় বাহিনীকে আলাদা করে রাখা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি বাফার জোন আগে ওই এলাকায় ছিল। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী সেই অঞ্চল দখলে রেখেছে।
নেতানিয়াহু বুধবার আবারও বললেন, ‘আমরা কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীকে আমাদের সীমান্তে ঘাঁটি গড়তে দেব না।’
আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সিরিয়ায় শত শত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে বারবার অনুপ্রবেশও করেছে দেশটি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, নিরাপত্তা অঞ্চলে সেনা মোতায়েন রাখা হবে। ওই এলাকায় আরও বিস্তৃত একটি অসামরিকীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইসরায়েল।
ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর এই হুমকি এমন সময়ে এল, যখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অচলাবস্থা চলছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষই পরস্পরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার সময় এই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
সূত্র: এএফপি






