চলতি অর্থবছর
রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২৫ কোটি, এখনো লোকসান ১৬৬৫ কোটি টাকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো এবং আয় বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে গত ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় ২২৫ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে লোকসানও ২২৫ কোটি টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে রেলওয়ের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মতে—এখনো ১ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে রেলওয়ে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের (কক্সবাজার-৩) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
রেলওয়ের ব্যয় বাড়ার কারণ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, রেলওয়ের অনেক রেললাইন ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৭০-এর দশকে স্থাপিত হয়েছে। পুরনো মিটারগেজ রেললাইনগুলোর কারণে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে। এ ছাড়া রেলওয়ের কিছু সরঞ্জামের যন্ত্রাংশ বর্তমানে সহজে পাওয়া যায় না। ফলে এসব ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
লাভজনক কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ রুটে যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে বর্তমানে ইঞ্জিন ও কোচের সংকটের কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
‘বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে মাত্র দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের জন্য সরকার ইতোমধ্যে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে এসব ইঞ্জিন ও কোচ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে’— উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
কক্সবাজার রুটে বেসরকারি খাতে ট্রেন পরিচালনার জন্য সরকার বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছে বলেও জানালেন রেলপথমন্ত্রী। বললেন, এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা ও বিবেচনা করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোগের মাধ্যমেও অল্প সময়ের মধ্যে এই লাভজনক রুটে ট্রেনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় সদস্য মারজিয়া বেগমের (সংরক্ষিত নারী আসন-৩৮) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে জাতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা ১৫টি জেলার মধ্যে ১০টি জেলায় রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলায় রেল যোগাযোগ রয়েছে। বাকি ১৫টি জেলার মধ্যে ১০টিতে নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব জেলার মধ্যে লক্ষ্মীপুরও রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত ১০টি জেলার মধ্যে মানিকগঞ্জসহ পাঁচটি জেলায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১০ জেলার মধ্যে লক্ষ্মীপুর অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে—যোগ করেন মন্ত্রী রবিউল আলম।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করলেও পরিচালন ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে লোকসান হয়েছে এক হাজার ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
চলতি বছরের ২০ জুলাই সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান।
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল এক হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকার বেশি। তবে পরিচালন ব্যয় আরও বেশি হওয়ায় গত অর্থবছরেও বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থাকে।






