রাজীবের স্বপ্নে ‘গরম’ ধাক্কা

ছবি: মোশারফ হোসেন
তাপমাত্রা হওয়ার কথা ছিল ২৪ ডিগ্রি, অথচ জিমনেশিয়ামের ভেতরটা হয়ে আছে ৩০ কি ৩২ ডিগ্রি। আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় গরম অনুভব হচ্ছে আরও বেশি। জিমনেশিয়ামের ভেতরে বাতাস আসা-যাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে, এক কোনায় চলছে দুটি স্ট্যান্ড ফ্যান। হাঁপিয়ে উঠলে সেই ফ্যানের বাতাসে একটু বিশ্রামের সুযোগ আছে!
এর মধ্যেই অনুশীলন করছেন সাত-আটজন জিমন্যাস্ট। তাদের মধ্যে রাজীব চাকমা যাবেন এবারের এশিয়ান গেমসে। জাপানের এই গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র অ্যাথলেট হিসেবে সরাসরি সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গত জুনে চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ৬২ জনের মধ্যে নবম হয়েই এই সুযোগ।
বান্দরবানের কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ছাত্র রাজীব এবারের এশিয়ান গেমসে জিমন্যাস্টিকসের অ্যাপারটাস ভোল্টে অংশ নেবেন। ২১ বছর বয়সী এই জিমন্যাস্টের স্বপ্ন অলিম্পিকে খেলা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কম্পিটিশনে অংশ নিয়ে নিজেকে তৈরি করাটাই তার চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু রাজীবের স্বপ্নযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রস্তুতির মঞ্চ। আগামীর সময়কে আক্ষেপ নিয়েই বলছিলেন, ‘যেখানে অনুশীলন করছি, জায়গাটা খুব গরম। একটু ঠান্ডা পরিবেশ হলে ভালো হতো। আমরা সকাল-বিকাল তিন ঘণ্টা করে অনুশীলন করি। গরমে অনুশীলন করাই দায়, অতিরিক্ত ঘেমে ক্লান্ত হয়ে পড়ি অল্পতেই।’
একটু ঠান্ডা পরিবেশ হলে ভালো হতো। আমরা সকাল-বিকাল তিন ঘণ্টা করে অনুশীলন করি। অতিরিক্ত ঘেমে ক্লান্ত হয়ে পড়ি অল্পতেই : রাজিব
এশিয়ান গেমসে বাছাই পর্বে রাজীবের প্রতিপক্ষ জাপান, তাজিকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাথলেটরা। তাদের প্রস্তুতির তুলনায় রাজীবদের সুযোগ-সুবিধা একেবারেই নগণ্য। এনএসসির পুরনো ভবনে থাকা রাজীবের কণ্ঠে নানা অভিযোগ, ‘আমাদের এখানকার খাবার একজন ক্রীড়াবিদের জন্য অনুপযোগী। এগুলো খেলে আমরা ফিটনেস ধরে রাখতে পারব না। আবার আমাদের থাকার রুমে এসিও নেই। সকালের অনুশীলন করে যে রিকভারি করার জন্য বিশ্রাম নেব, গরমের কারণে তাও পারি না।’
এমন প্রতিকূল পরিবেশে অনুশীলন করেই দেখতে হয় পদকের স্বপ্ন। কোচ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাসুম শুধু আশা-ই দেখাতে পারলেন, ‘যে অবস্থায় অনুশীলন হচ্ছে, এটা খুবই কঠিন। আমরা অনুশীলন সরঞ্জামগুলোও জায়গার অভাবে গুছিয়ে রাখতে পারছি না। কিন্তু বিশ্বাস রাখি একজন অ্যাথলেট তার নিজের প্রতিভাটা দেখবে। কোচ হিসেবে আমি তার প্রতিভা কাজে লাগানোর কৌশলগুলো সামনে রাখব।’
জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান জামিল মেনে নিয়েছেন অ্যাথলেটদের অসুবিধার কথা। তবে রাজীবদের জন্য তড়িঘড়ি করে জিমনেশিয়াম কিছুটা ঠিক করার কথা বলেছেন, ‘মাস খানেক আগে জিমনেশিয়াম আরও করুণ অবস্থায় ছিল। এনএসসি পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী দায়িত্ব নিয়ে আলোকস্বল্পতা দূর করেছেন। অ্যাগজস্ট ফ্যান ঠিক করা হয়েছে, কানেকশন দিয়ে দিলে সেন্ট্রাল কুলিং সিস্টেমটা একটু কাজ করবে। এসির জন্য ডিমান্ড দেওয়া হয়েছে এনএসসিকে, শিগগির এটা নিয়ে কাজ শুরু হবে। আর ক্রীড়াবিদদের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ বাড়ানো হলে খাবারের ব্যাপারটা উন্নত হবে।’ সবই হবে। কোনো কিছুই ঠিকঠাক আয়োজন করে কোনো গেমসের মিশনে নামে না ফেডারেশন বা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। নিজেদের ‘আনন্দ ভ্রমণ’ হালাল করতে হলেও তো অ্যাথলেটদের ভালোমন্দ দেখা দরকার।





