শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, অনতিবিলম্বে এসব পর্যালোচনার ফল পাওয়া যাবে।
আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সংবাদ সম্মেলনে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হয়।
চিফ হুইপ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় কিছু সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।
অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বললেন, দেশের স্বার্থ সবার আগে। চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধু দেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে এলে আগে বন্ধু দেশের জাহাজ খালাসের মতো ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অনেক চুক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বললেন, ‘আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। দেশের স্বার্থ রক্ষা করার পরই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।’
গুম প্রতিরোধ আইন সংসদে পাসের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেছেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার হয়েছেন। তাই গুম প্রতিরোধ আইনকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নুরুল ইসলাম মনি জানান, আইন প্রণয়নের আগে আইনজীবী, বিচারক, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এরপরও বিরোধী দল আইনটির বিরোধিতা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
সার সংকটের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেছেন, দেশে এখনো ১৬ লাখ টন সার অতিরিক্ত রয়েছে। সংকটের মূল কারণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি। পাশাপাশি, পতিত সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৪ হাজার সার ডিলার বর্তমানে দেশে নেই।
তিনি জানান, ওই সময়ে সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই সার ডিলারের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তাদের অনুপস্থিতির কারণেও বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের স্বার্থে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকার যদি কৃষকের কথা না ভাবত, তাহলে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হলো কেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। এই অধিবেশনে মোট ছয়টি বিল উত্থাপন করা হয় এবং পাস হয়েছে সবগুলো বিলই। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি করা হয়েছে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন।




