সাহেববাজার
চার মাস ছক কষে চুরি, ২০০ ভরি স্বর্ণ লুট

ছবি: আগামীর সময়
চার মাস ধরে টার্গেট করা হয়েছিল রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারের কারুশ্রী জুয়েলার্সকে। কখন দোকানে ভিড় কমে, আশপাশে কারা থাকে, কীভাবে ঢোকা যাবে এবং কোন পথে নিরাপদে বের হওয়া সম্ভব- সবই খতিয়ে দেখেছিল চোরচক্রটি। শেষ পর্যন্ত ১৯ জুন ভোরে দোকানের সামনে বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসিয়ে কৃত্রিম ভিড় তৈরি করে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানে ঢোকে তারা।
দোকান থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রূপা, তিন বাক্স স্বর্ণের নাকফুল ও নগদ ২০ লাখ টাকা লুট করে চক্রটি। এ ঘটনায় চোরচক্রের সাত সদস্য ও চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান।
তিনি জানালেন, আরএমপি ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসিটিভি ক্যামেরা ইউনিটের যৌথ তদন্তে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বাগেরহাটের মোংলার রুস্তম আলী শেখ (৬৪), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার স্বপন (৬২), একই এলাকার উজ্জল (৩৭), একই গ্রামের রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরণখোলার আবু তালেব (৪৫), একই এলাকার কালাম শেখ (৪৮), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ইউনুস (৪৫) এবং চাঁদপুরের কচুয়া থানার রবিউল হাসান (৪৫)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানালেন, চক্রটি পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের চুরি করত। একটি চুরির আগে তিন থেকে চার মাস ধরে টার্গেট করা এলাকা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করত তারা। দোকানে প্রবেশের পথের পাশাপাশি চুরির পর নিরাপদে পালানোর পথও আগেই ঠিক করে রাখত।
তার মতে, চক্রটির সদস্যরা যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করত। প্রতিটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করত না। সিমকার্ডও অন্যের নামে নিবন্ধন করা। যাদের নামে এসব সিম নিবন্ধিত, তাদের অনেকেই জানতেন না যে তাদের নামে সিম ব্যবহার করা হচ্ছে। চক্রের সদস্যরা কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থানও করত না।
কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রটির কয়েকজন সদস্য রাজশাহীতে আসে। বিভিন্ন হোটেলে ব্যবসায়িক পরিচয়ে অবস্থান করে তারা সাহেববাজার ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। পরে দোকানটিকে টার্গেট করে চুরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
১৯ জুন ভোরে পরিকল্পনা অনুযায়ী দোকানের সামনে বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসিয়ে লোকজনের জটলা তৈরি করা হয়। সেই সুযোগে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে ঢোকে চক্রের সদস্যরা। এরপর দোকান থেকে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখান থেকে স্বর্ণ, রূপা, নাকফুল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য আরএমপি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসিটিভি ক্যামেরা ইউনিট সমন্বিতভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে চোরাই স্বর্ণ কেনার সঙ্গে জড়িত রবিউল হাসানের সন্ধান পায় পুলিশ। তাকে ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে ২৬ ভরি চোরাই স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রি করে পাওয়া ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ায় রবিউল হাসানকে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গাজিউর রহমান আরো জানালেন, চক্রটির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



