ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই নেতানিয়াহুর
ইরান বারুদে পুড়ছে দুই বন্ধুর কপাল!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একজনের সামনে ৩ নভেম্বরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। আরেকজনের ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি জাতীয় নির্বাচন। দুজনের হাতেই যুদ্ধের মানচিত্র। কিন্তু সামনে এখন ভোটের ব্যালট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্বখ্যাত ‘দুই বন্ধু’র শাসকচরিত্রও যেমন এক; রাজনৈতিক ভাগ্যও তেমনি আটকে গেছে একই আগুনে— ইরান যুদ্ধ!
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বদলে যাচ্ছে দুই নেতার রাজনৈতিক হিসাব। শুরুতে যে যুদ্ধকে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, এখন সেটিই জ্বালানি মূল্য, মূল্যস্ফীতি, সামরিক ব্যয় ও জন-অসন্তোষের প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে। আর ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সামনে আসছে কঠিন প্রশ্ন— যুদ্ধ জিতলেই কি ভোট জেতা যায়?
একই যুদ্ধ, দুই নেতার দুই পরীক্ষা
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক বহুদিনের। ইরান, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে দুই দেশ এখন সরাসরি একই সংঘাতের অংশীদার। কিন্তু যুদ্ধের দীর্ঘায়ন দুজনের জন্যই নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
নেতানিয়াহুর সামনে বড় অঙ্ক
ইসরায়েলি জরিপে নেতানিয়াহুর জন্য স্বস্তির চেয়ে অনিশ্চয়তাই বেশি। সেপ্টেম্বরের সাম্প্রতিক এক জরিপে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার দল ২৫ আসন নিয়ে এগিয়ে, নেতানিয়াহুর লিকুদ ২০ আসনে। আরেক জরিপে আইজেনকটের দল ২৫, লিকুদ ২১। বিভিন্ন জরিপে বিরোধী শিবির এগিয়ে থাকলেও কোনো পক্ষই এখনো নিশ্চিত ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারছে না।
অর্থাৎ নেতানিয়াহু সবচেয়ে বেশি আসন না পেলেও জোটের অঙ্কে আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারেন। যুদ্ধের সামরিক ফলাফল নেতানিয়াহুকে শক্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মূল্য ভোটারদের ক্ষুব্ধ করলে সে সাফল্যই উল্টো রাজনৈতিক দায় হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্পের সামনে যুদ্ধের সঙ্গে পকেটের লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রে সংকটের কেন্দ্র আরও সরাসরি— জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমেছে। ৫৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তার সময়ে তারা আর্থিকভাবে আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছেন। একই জরিপে জাতীয় ভোটের পছন্দে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ৭ দশমিক ৫ পয়েন্ট এগিয়ে।
ট্রাম্পের নতুন ঝুঁকি— যুদ্ধ থামছে না
ট্রাম্প এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন; বরং তার প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ১০ সেপ্টেম্বরও ট্রাম্প ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ঘিরে নতুন তৎপরতার অভিযোগ তুলে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দিয়েছেন।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উত্তেজনায় তেলের দাম আবার বেড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
দুই বন্ধুর সামনে একই প্রশ্ন
নেতানিয়াহুর জন্য প্রশ্ন— ইরান ও গাজায় সামরিক শক্তি প্রদর্শন কি নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে দেবে?
ট্রাম্পের জন্য প্রশ্ন— ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান কি জাতীয় নিরাপত্তার সাফল্য হিসেবে ভোটে রূপ নেবে, নাকি বাড়তি জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে যাবে? এখানেই দুই নেতার রাজনৈতিক ভাগ্য একবিন্দুতে এসে মিশেছে। নেতানিয়াহুর ভোট ২৭ অক্টোবর। ট্রাম্পের পরীক্ষা তার মাত্র এক সপ্তাহ পর, ৩ নভেম্বর। অর্থাৎ মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই মিত্রের ভোটাররা একই যুদ্ধের ফলাফল নিজেদের দেশের আয়না দিয়ে বিচার করবেন।



