উ. কোরিয়ান ঝড়ের মুখে ঋতুপর্ণারা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপের আগে কেপ ভার্দের ফুটবল বীরত্বের কথা কে জানত। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনও পারেনি তাদের গোলমুখ খুলতে। বাংলাদেশের মেয়েরাও যদি আজ এশিয়ান গেমসে পরাক্রমশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এমন এক ফুটবল রূপকথার জন্ম দেয়!
ভাবছেন হয়তো কল্পনার রঙটা বেশি হয়ে গেছে। একটা সময় এখানকার মেয়েরা ফুটবল খেলত হেঁটে। সেই ‘হন্টন ফুটবল’কে গত এক দশকে ঋতুপর্ণা-মারিয়া মান্দারা তুলে নিয়েছেন নতুন উচ্চতায়। এভারেস্ট না ছুঁলেও লাল-সবুজের মেয়েরা মেঘের রাজ্য ছাড়িয়ে অর্ধেকটা পথ জয় করে ফেলেছে। বাকি পথটুকু শুধু সময় আর সাহসের। দেশের ফুটবলে গৌরবের পতাকা সত্যিকারভাবে ঋতুপর্ণাদের হাতেই।
তাদের নিয়ে স্বপ্নবিলাস করাই যায়। তাই বলে বাস্তবে যে কিছু মিলবে না, এমনও নয়। এশিয়ান গেমসে এশিয়ার পরাশক্তি উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলারও চাইছেন উজাড় করে দেওয়া পারফরম্যান্স, ‘এই ম্যাচের জন্য আমাদের আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া। এই ম্যাচে আমাদের জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও কেউ দেখছে না, বাস্তবতাও হয়তো তাই। তবে এই ম্যাচটা আমাদের জন্য শেখার, দলের মর্যাদা রক্ষার ও মাঠে ইতিবাচক পারফরম্যান্স তুলে ধরার।’
উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবলে বড় শক্তি; বয়সভিত্তিক তারা কয়েকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত মার্চে নারী এশিয়ান কাপ ফুটবলে তারা ৫-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। ছয় মাসের ব্যবধানে কোনো জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় ফুটবলে রূপ বদলের সুযোগ নেই। আজ আবারও বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ওই হারের কিছু শিক্ষাও নিশ্চয়ই আছে। তাদের আটকাতে হবে বা কৌশল বদলেরও সুযোগ আছে কোচের। ওসব প্রকাশ্যে বলতে নেই, তবে উত্তর কোরিয়ার শক্তির কাটাছেঁড়া করে অবশ্যই লড়াইয়ের নতুন মন্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে পিটার বাটলারের দল। যেখানে তাদের জয়ের চাপ নেই, কঠিন চ্যালেঞ্জকে ‘উপভোগ’ করার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এটা দ্বিতীয় এশিয়ান গেমস। আগের মিশনে চমকে দেওয়ার মতো কোনো পারফরম্যান্স নেই তাদের। দুই হার ও এক ড্র নিয়ে তারা দেশে ফিরেছিল। এবার পড়েছে কঠিন এক গ্রুপে। এফ গ্রুপে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলতে হবে। তবে দুই কোরিয়ার কাছে হারলেও মিয়ানমারের ম্যাচটা বড় গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচের ইতিবাচক ফলও সেরা তৃতীয় হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে দিতে পারে শেষ আটে।
এই হিসাব পিটার বাটলারের মাথায়ও আছে। সুতরাং রক্ষণভাগ উদোম করে আত্মঘাতী ফুটবল খেলবে না তার দল। তিনি লক্ষ্যটা খোলাসা না করেই বলেছেন, ‘আমরা বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি। ভালো করেই জানি এশীয় ফুটবলের দুই শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে হবে আমাদের। এমনকি র্যাংকিংয়ের বিচারে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে।’ মিয়ানমার এগিয়ে থাকলেও ঠিক ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়।
তার আগে গেমসের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলই ঠিক করে দিতে পারে টুর্নামেন্টের গতিপথ। কোচ বলছেন, ‘পরিস্থিতি কতটা কঠিন, তা নিয়ে আমি বিভ্রান্তির মধ্যে নেই।’ কঠিনের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রূপকথার গল্প লিখতে হয়। উত্তর কোরিয়ার সুসংগঠিত ঝড়ের সামনে ঋতুপর্ণারা কতটা বীরত্বের সঙ্গে লড়তে পারেন, সেটি দেখা যাবে আজ ওসাকার সবুজ মাঠে।



