ডাকসুর ৩ কাণ্ড তদন্তে ঢাবির ৩ কমিটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি তোলা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহর ছবি তোলার বিষয়টির পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়টিও তদন্ত হবে।
ছবি নিয়ে দিনভর বিতর্কের মধ্যে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর।
কমিটিগুলোকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ইসলামী ছাত্র শিবির নিয়ন্ত্রিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে সম্প্রতি ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয় কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে। এরপর শিক্ষক মূল্যায়নের একটি ওয়েবসাইট খোলা হয় ডাকসুর উদ্যোগে।
দুটির ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপও নেয়নি।
তবে গতকাল রবিবার ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
তা নিয়ে আজ ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন যেমন ক্ষোভ প্রকাশ করছিল, আবার সাবেক এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় ঢুকে জিন্নাহর ছবিগুলোর ফ্রেম থেকে খুলে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলেন।
এরপরই তিনটি ঘটনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু কর্তৃক ক্যাম্পাসে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু, বিনা অনুমতিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের (ছাত্রশিবিরের পূর্বসূরি ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা, যিনি ১৯৬৯ সালে নিহত হয়েছিলেন) ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট খোলার বিষয়টি তদন্ত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর নেতৃত্বে।
ছয় সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য থাকছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), আইন অনুষদের ডিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং আইকিউএসির পরিচালক। কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।
স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধানও থাকছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির সদস্যরা হলেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন এবং প্রক্টর। এতে সদস্য সচিব থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার।
অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তেরও নেতৃত্ব দেবেন।
পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য থাকছেন আইন অনুষদের ডিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং প্রক্টর। এই কমিটিতেও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার।





