ব্রিকস ঘিরে দিল্লিতে রোজগারে ধাক্কা
- নেতাদের নিরাপত্তায় সাধারণের ভোগান্তি

একদিকে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রনেতাদের আগমন, অন্যদিকে রাজধানীর রাস্তায় আটকে গেল বহু সাধারণ মানুষের জীবিকা। নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণের জেরে সমস্যায় পড়েছেন অটোচালক, ট্যাক্সিচালক, ডেলিভারি কর্মী এবং দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষ।
গত শুক্রবার দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক যান নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা বন্ধ এবং বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে অনেক চালককে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, বাড়ছে জ্বালানি খরচ, আবার কমছে যাত্রীর সংখ্যা। দিল্লির অটোচালক নীরজ কুমার বলেছেন, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তার কথায়, ‘এক কিলোমিটারের রাস্তা যদি আট কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, তাহলে আমরা কী করব?’ ৩৫ বছর ধরে অটো চালানো নীরজের অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও ভাবা উচিত। তিনি আরও বলেছেন, ‘সরকারের উচিত বিদেশি অতিথিদের জন্য এমন ব্যবস্থা করা, যাতে সাধারণ মানুষ বা অতিথি কেউই সমস্যায় না পড়েন।’
শুধু অটোচালক নয়, সমস্যায় পড়েছেন খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী কর্মীরাও। ডেলিভারি কর্মী মহম্মদ ইলিয়াস বললেন, রাস্তা বন্ধ ও যানজটের কারণে অনেক কর্মী কয়েক দিন ঠিকমতো কাজ করতে পারবেন না। তার কথায়, ‘আমরা যদি কাজের জায়গায় পৌঁছাতেও পারি, তবু যানজটে আটকে যাব। কাজ করতে পারব না।’
ব্রিকস সম্মেলনের জন্য দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড, পুলিশি তল্লাশি এবং যান চলাচলে বিধিনিষেধসহ বিদেশি প্রতিনিধিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা নেয়।
শুধু যাতায়াত নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছেন রাস্তার ছোট ব্যবসায়ী ও হকাররাও। সম্মেলনস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ রুটের আশপাশে অনেক বিক্রেতাকে অস্থায়ীভাবে দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কয়েক দিনের আয় বন্ধ হওয়া মানে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়া। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসিন্দাদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার, যাত্রার আগে পরিকল্পনা করা এবং সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



