মোদির নিরামিষ নৈশভোজে গেলেনই না শি
- ৮০ শতাংশ ভারতীয়ই আমিষভোজী, খোঁচা রাহুল গান্ধীর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটিয়েছেন বিশ্বের বড় বড় নেতা। আয়োজন, আপ্যায়ন এবং নিরাপত্তায় কোনো কমতি রাখেনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। দিনশেষে নৈশভোজের আয়োজনও ছিল জিভে জল আসার মতো! মোদির প্রিয় মেন্যুতে সাজানো স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় ভারতের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো পেটপুরে খেয়েছেন উপস্থিত প্রায় সব রাষ্ট্রনেতাই। অথচ রাষ্ট্রনায়কদের সম্মানে আয়োজিত ভারত মন্ডপমের ওই বিশেষ গালা ডিনারে গেলেনই না চীনের ভোজনরসিক প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছিলেন দিল্লিতেই। নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা হোটেল তাজ প্যালেসেই। দ্য টেলিগ্রাফ।
কোনো কারণ ছাড়াই প্রেসিডেন্ট শির এই ‘হঠাৎ বয়কট’ রীতিমতো ঝড় তুলেছে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কথা উঠছে মোদি নির্ধারিত নিরামিষ মেন্যু নিয়েও।
২৪ ঘণ্টার সফরে গত শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে দিল্লিতে অবতরণ করেন শি। সাত বছর পর ভারত সফরের প্রথম দিনেই বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। সম্মেলনের নানা কূটনৈতিক আয়োজনে উচ্ছল অংশগ্রহণ ছিল সারা দিনই। কিন্তু নৈশভোজের আগে ডিনার টেবিলে দেখা যায় উল্টো দৃশ্য— শি নেই!
বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সময়ের পার্থক্যের কারণে ক্লান্ত থাকায় তাজ হোটেল কক্ষে বিশ্রাম করতে ফিরে যান শি। এ কারণেই নৈশভোজটিতে অংশ নেননি তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও এই আয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ। তবে অংশ নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্য ব্রিকস নেতারা। এ ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও ছিলেন নৈশভোজে। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর শি জিনপিং গতকাল রবিবার বিকালে নয়াদিল্লি ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে তার এক দিনের ভারত সফর শেষ হয়।
মেন্যু নিয়ে সমালোচনা: শির অনুপস্থিতির পাশাপাশি গালা ডিনারে পরিবেশিত সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারের ব্যাপারটি নজর কেড়েছে সবার। সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকেননি ভারতের বিরোধী দলের নেতারাও। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ভারতে আমিষ খাবারের জনপ্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তার এক্স, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে। ছোলে ভাটুরের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “তথ্য হিসেবে জানিয়ে রাখি, ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু। ঠিক যেমন আমার বোনের হাতের ‘ছোলে ভাটুরে’।” কংগ্রেস নেত্রী ড. শামা মোহাম্মদ ফেসবুকে খাবারের তালিকার একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘শি জিনপিং যে রাতের খাবারের জন্য হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমিও তা-ই করতাম!’ সফররত বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারের মেন্যু বেছে নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তিনি এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘সহনাগরিকদের ওপর নিজেদের খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা বিজেপির রয়েছে, তা এমনিতেই অত্যন্ত সমস্যাজনক। এখন তারা আরও একধাপ এগিয়ে বিশ্ব জুড়ে আসা বিশিষ্ট অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে।’
কী ছিল মেন্যুতে: ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবারের সমাহারে এক বিশাল নিরামিষ ভোজের আয়োজন করা হয় জমকালো নৈশভোজে। খাবারের তালিকার শুরুতেই ছিল ‘খান্ডভি মিল’ (বেসনের তৈরি ভাপে সিদ্ধ রোল) এবং ‘খুম্ব গালৌটি’ (পুদিনার দানা বা ‘মিন্ট পার্ল’ সহযোগে প্যানে ভাজা মাশরুম কাবাব)। প্রধান খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, হিমালয়ের মোরেল মাশরুম ও কচি অ্যাসপারাগাস দিয়ে তৈরি ‘গুচ্ছি মারমিক’ এবং গাজর-শিমের ‘পোরিয়াল’। অন্যান্য পদের মধ্যে ছিল ‘থাক্কালি বেলে সারু’ (ডালের হালকা ঝোল), মিলেট পোলাও, বিটরুট রাইতা এবং নানা ধরনের ভারতীয় রুটি। মিষ্টান্ন হিসেবে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় জিলাপি ও শাহতুত ফিরনির সঙ্গে ‘ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম’। রাতের এই আয়োজনে ছিল ভারত ও ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশ থেকে আসা শতাধিক শিল্পীর সমন্বয়ে গঠিত একটি দলের পরিবেশনাও।



