ইউক্রেন-রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না: ট্রাম্প

ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছে বলে সোমবার মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর এক দিন আগে রুশ তেল শোধনাগারে হামলার জন্য কিয়েভকে তিরস্কার করেছিলেন তিনি।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ট্রাম্প বললেন, ‘ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই কাজ করতে সম্মত হয়েছে!’
তিনি আরও বললেন, ‘বিশ্বে ডিজেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান নয়।’
তবে এমন কোনো সমঝোতার বিষয়ে কিয়েভ বা মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এই দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান যুদ্ধের সপ্তম মাসে তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলে আসছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে এবং গ্যাসের দাম কমে যাবে। তবে এরই মধ্যে পাম্পে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য দায়ী করার মতো নতুন একটি পক্ষ তিনি খুঁজে পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
আয়ারল্যান্ড সফরের সময় রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে ডিজেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কারণে জেলেনস্কিকে ‘একটি কাজ’ করতে হবে এবং ‘ডিজেল জ্বালানি উৎপাদন স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বললেন, ‘তাকে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে দিন, কিন্তু ডিজেল জ্বালানিতে নয়। কারণ, এতে ডিজেলের সংকট তৈরি হচ্ছে।’
ট্রাম্প আরও জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব স্থাপনায় ইউক্রেনের বাড়তে থাকা হামলা নিয়ে তিনি দেশটির নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি বললেন, ‘আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। ডিজেল জ্বালানিতে হামলা চালাবেন না। কারণ, এতে ক্ষতি হচ্ছে। এতে বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই না তিনি ডিজেল জ্বালানিতে হামলা চালান... তিনি ডিজেল শোধনাগারে হামলা চালাচ্ছেন।’
ইউক্রেন রাশিয়ার সীমান্ত থেকে অনেক দূরের বেশ কয়েকটি রুশ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কোও দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে। এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুও বেড়েছে।
কিয়েভ রাশিয়ায় রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মস্কোও সর্বকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ‘দারুণ কথোপকথন’ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর যুদ্ধ শেষ করতে পুতিন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান।
গত সপ্তাহে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ডিসেম্বরে মিয়ামিতে ট্রাম্পের নিজের ডোরাল রিসোর্টে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে তিনি রাজি আছেন। তবে ক্রেমলিন তাৎক্ষণিকভাবে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়।
সূত্র: রয়টার্স




