ঢাবি ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান মবের শিকার তাহসিনের

তাহসিন বর্তমানে হাভার্ডে পাবলিক পলিসিতে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। ছবি: তাহসিনের ফেসবুক থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতক শেষ করেন এ আর তাহসিন জাহান। সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে পেয়েছেন ৩.৯৫। মনোনিত হয়েছেন এবারের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্যও। কিন্তু তিনি এই পুরস্কার প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়েছেন।
বর্তমানে হাভার্ডের জন এফ কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে পাবলিক পলিসিতে মাস্টার্স করছেন তাহসিন। উচ্চশিক্ষার জন্য তাই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এই শিক্ষার্থী। আজ সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে কারণ হিসেবে তাহসিন লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে মবের শিকার হয়েছেন তিনি। তিনি বললেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই আজকের দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু যে প্রশাসন নিজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ধ্বংস হতে দেখেও কোনো দায়িত্ব পালন করেনি, সেই প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
আবেগঘন এক বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ২০২৪ সালে কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি মবের শিকার হয়েছিলাম। আমাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। শারীরিক নিরাপত্তার অভাবে ক্যাম্পাসে ফিরতে না পারলেও বিভাগের কিছু শিক্ষকের নৈতিক সাহসিকতার কারণে নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ভাইভা দিয়ে কোনোমতে স্নাতক সম্পন্ন করতে পেরেছি।
ওই একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পাননি এবং প্রশাসন নীরব থেকে মৌলবাদী মবকে সমর্থন জুগিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তাহসিন লিখেছেন, এমনকি কারাগারে থাকা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনগুলো শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি প্রশ্ন তুলে মন্তব্য করেন, সরকার পতনের পর যদি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তবে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন নিজেদের ক্লাসরুমে ফিরতে পারছে না।
যেসব শিক্ষক তাকে কঠিন সময়ে সাহায্য করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তার এই সিদ্ধান্ত কোনো পুরস্কারকে ছোট করার জন্য নয়; বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ হারানো সহপাঠীদের পাশে দাঁড়ানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র। ন্যায়বিচার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বললেন, অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো পরিবর্তনের বিকল্প হতে পারে না।




