ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪৮ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬ বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থী পেয়েছেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড
অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি স্বরুপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ডিনস অ্যাওয়ার্ড।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিগত তিন বছরের (২০২১, ২০২২ ও ২০২৩) স্নাতক ফলাফলের ওপর এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুই শিক্ষককেও পুরস্কার দেওয়া হয়।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু তার অবকাঠামো বা অর্জনের পরিসংখ্যানে মাপা যায় না; তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মেধাবী শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আমরা সবসময়ই একাডেমিক উৎকর্ষ, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ডিনস অ্যাওয়ার্ড সেই অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষেরই একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না; তাদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ পুরস্কার তাদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কারপ্রাপ্তির সঙ্গে তাদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে। সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।
বিভাগীয় চেয়ারম্যানগণ ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সকল শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-
২০২১ সালের মধ্যে- মো. হাসান আল আজাদ, নিসর্গ নিঝুম, ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, রাহনুমা বিনতে মালেক এবং শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।
২০২২ সালের মেহেদি হাসান রিমন, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান এবং মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।
২০২৩ সালের মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, লুবাবা বিনত হালিম, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, শারমিন জাহান মিম, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি এবং তানজিমা সাবরিন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ড. মোহাম্মদ তারেক হাসান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. লিপন কুমার মণ্ডল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কোর প্রতিনিধি-অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজ।



