নতুন নীতিমালা
উন্নত কর্মদক্ষতা প্রমাণে ৭৫ নম্বর পেতে হবে ব্যাংক এমডিদের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতার বড় মাপকাঠি হচ্ছে খেলাপি ঋণ কমানো ও ঋণ আদায়। এখন থেকে শুধু ব্যাংকের মুনাফা কিংবা ব্যবসা বাড়ানোর ওপর এমডি-সিইওর সাফল্য নির্ভর করবে না। খেলাপি ঋণ, শীর্ষ ঋণগ্রহীতার ঝুঁকি, শ্রেণিকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়, মূলধন, তারল্য, সুশাসন ও গ্রাহকসেবাসহ একাধিক সূচকে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যে ব্যর্থ হলে সামগ্রিক কর্মদক্ষতার নম্বরও কাটা যাবে। আর উন্নত কর্মদক্ষতার নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫।
আজ রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এমডি-সিইওর মোট কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে। এর মধ্যে ব্যাংকের সলভেন্সি ও তারল্যে ২৫ শতাংশ, সম্পদের মানে ২৫ শতাংশ, মুনাফায় ১০ শতাংশ, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, গ্রাহক ও বাজার আচরণে ১৫ শতাংশ নম্বর রয়েছে। সম্পদের মানের ২৫ শতাংশে খেলাপি ঋণের অনুপাত, নিট খেলাপি ঋণ, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ, প্রভিশন সংরক্ষণ, বড় ঋণ ও শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার ঋণ কেন্দ্রীভবন এবং শ্রেণিকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। মোট খেলাপি ঋণের হার শিল্প ও সমপর্যায়ের ব্যাংকের গড়ের নিচে নামানোর পাশাপাশি তা ধারাবাহিকভাবে কমানোর প্রত্যাশা করা হয়েছে। গত ছয় মাসে শ্রেণিকৃত ঋণ ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে কত টাকা আদায় হয়েছে, সেটিও এমডির পারফরম্যান্সের অংশ হবে। এ ক্ষেত্রে আদায়ের পরিমাণ বাড়িয়ে শিল্প ও সমপর্যায়ের ব্যাংকের গড়ের ওপরে নেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এদিকে নতুন নীতিতে কোনো নির্দিষ্ট কেপিআইয়ের লক্ষ্যমাত্রার অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জন না করলে ওই সূচকে কোনো নম্বর পাওয়া যাবে না। ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্জন করলে লক্ষ্যের অনুপাতে নম্বর দেওয়া হবে। এর বাইরে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে লক্ষ্যের ৫০ শতাংশের কম অর্জন করলে বা শূন্য স্কোর হলে মোট নম্বর থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ হারে নম্বর কাটা হবে। কর্মদক্ষতার চূড়ান্ত স্কোরে ৭৫ বা তার বেশি হলে গড়ের বেশি, ৬৫ থেকে ৭৫-এর নিচে হলে গড়, ৬৫-এর নিচে হলে গড়ের কম হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে। ৬৫-এর নিচের কর্মদক্ষতাকে তাৎক্ষণিক উন্নতির প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখা হবে।




