দেড় মাস পর এলএনজি সরবরাহ প্রায় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট

ছবি: আগামীর সময়
দেড় মাস পর প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। সোমবার মাঝরাত থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। সকালে সেটি ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যায়।
এর আগে সোমবার ঢাকায় শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের সাথে বৈঠকে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরার আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সেই আশ্বাস পূরণ হলো। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে দেশ জুড়ে গ্যাস সরবরাহের হাহাকারে স্বস্তি ফিরল। তবে এ স্বস্তির স্থায়িত্ব নির্ভর করছে চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি আমদানি হচ্ছে কি না, তার ওপর।
সরকার দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন এবং আমদানিকৃত এলএনজি দিয়ে মোট সরবরাহ সামাল দেয়। মোট গ্যাস সরবরাহে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ৬২ শতাংশ এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে ৩৮ শতাংশ। দুটি সরবরাহের যোকোনো একটি খাত থেকে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ বন্ধ হলেই পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে পড়ে।
এখন দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দিয়ে এতদিন সংকট সামাল দেওয়া হচ্ছিল। ২২ জুলাইয়ের পর থেকে এই সরবরাহেও ধস নামে।
গতকাল সোমবার দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট। এরসঙ্গে রাতে এলএনজি সরবরাহ ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়। এখন দুটি টার্মিনালেই জাহাজ আছে। আসার অপেক্ষায় আছে আরও জাহাজ। সরকার যদি এলএনজি সরবরাহ আরও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ায়, তবে দেশীয় ও এলএনজি মিলিয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি পৌঁছাবে।
আরপিজিসিএলের একাধিক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানালেন, সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি জাহাজ আসা প্রায় নিশ্চিত। এই মাসে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি সরবরাহ থাকবে। অক্টোবর মাসের জন্য এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পূর্ণ মাত্রায় সরবরাহ দিতে গেলে মাসে মোট ৩৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি প্রয়োজন। এজন্য প্রতি মাসে নিয়মিত ১১ থেকে ১২টি এলএনজি জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হয়। জুলাই মাসের শেষ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই এলএনজি সরবরাহ সাড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি হয়নি। ফলে দেশ জুড়ে গ্যাস সরবরাহে হাহাকার হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপর্যয় নামে।
গ্যাস নিয়ে বিপর্যয় শুরু হয় ২২ জুলাই। মহেশখালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালের বয়লারে আগুণ লাগার পর থেকেই এলএনজি সরবরাহে বিপর্যয় নামে। সেটি মেরামত করতে অনেক সময় লেগে যায়। এরপর সামিটের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়লে সরবরাহ আরও সংকট তৈরি হয়। দুটি টার্মিনাল সচলের পর দেখা দেয় এলএনজিবাহী জাহাজ সংকট। দেড় মাস ধরে এই জাহাজ সংকটে পড়ে এলএনজি সরবরাহে বিপর্যয় নামে। মূলত অখ্যাত কোম্পানির মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহের চুক্তি করায় এই সংকট তৈরি বলে অভিযোগ আছে।
বিভিন্ন দেশে তদবির করে চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে এলএনজি এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাড়তি দামের এই এলএনজিই এখন আসছে দেশে।



