মহাকাশের কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

মহাকাশে বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে কক্ষপথের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের সদস্যরা। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
মহাকাশে ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপনস’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ড. ট্রয় ই মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা এসব অস্ত্র রয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ারস্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এসব অস্ত্রের ধরন, সংখ্যা বা কোন কক্ষপথে মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় মেইঙ্ক বলেছেন, অস্ত্রগুলোর সক্ষমতা বা সেগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তার ভাষ্য, এসব তথ্য প্রকাশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ার বদলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মেইঙ্ক বলেছেন, এসব অস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করা এবং মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
‘স্পেস কন্ট্রোল’ বলতে প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক— দুই ধরনের ব্যবস্থাকেই বোঝানো হতে পারে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করা বা সেটিকে অকার্যকর করার সক্ষমতাও থাকতে পারে। অস্ত্রগুলো গতিশক্তিনির্ভর নাকি অন্য ধরনের, তা মেইঙ্ক জানাননি।
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় সামরিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ, অবস্থান নির্ধারণসহ বিভিন্ন কাজে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরতা রয়েছে।
মেইঙ্ক বলেছেন, চীন ও রাশিয়া মহাকাশে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। দেশ দুটির মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
এদিকে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র এ সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। মেইঙ্ক বলেছেন, মহাকাশ সামরিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবাধে কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্পেস ফোর্স মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাও তৈরি করছে। মেইঙ্ক জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহারের জন্য স্পেস-বেসড ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলক সক্ষমতা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।
এ ছাড়া শত্রুপক্ষের আকাশভিত্তিক হুমকি শনাক্ত করতে মহাকাশভিত্তিক স্যাটেলাইট ব্যবস্থাও তৈরি করছে স্পেস ফোর্স। এ ব্যবস্থার প্রথম স্যাটেলাইট চলতি মাসে উৎক্ষেপণের কথা জানিয়েছেন মেইঙ্ক।
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকারোক্তি এমন সময়ে এলো, যখন চীন ও রাশিয়ার মহাকাশ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে কক্ষপথে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোকে ঘিরে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।




