পরীক্ষায় ফেল করা যুবক মহাকাশে পাঠাচ্ছেন রকেট

বাবার সঙ্গে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা পবন কুমার চন্দনা। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছিলেন ‘দুর্বল’ শিক্ষার্থী। অঙ্কে নম্বর ৫১, ফেল করেছিলেন আরেক সাবজেক্টে। সেই যুবকই এখন মহাকাশে পাঠাচ্ছেন রকেট। গল্পটি মহাকাশে সফলভাবে রকেট উৎক্ষেপণ করা ভারতের প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা পবন কুমার চন্দনার।
কক্ষপথে পৌঁছেছে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের উৎক্ষেপণ করা রকেট ‘বিক্রম-১’। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা অর্জনকারী তৃতীয় দেশে পরিণত হলো ভারত।
২০১৮ সালে সহপ্রতিষ্ঠাতা নাগা ভারত ডাকার সঙ্গে উচ্চাভিলাষী স্টার্ট-আপটি যখন শুরু করেন, তখন বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য এটি উন্মুক্তই ছিল না।
বিক্রম-১ রকেট উৎক্ষেপণের পর নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, বিক্রম-১ সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর আমি প্রথম যে ফোন কল করেছিলাম, সেটি ছিল আমার বাবাকে। তিনিই সেই মানুষ, যিনি আমার এই যাত্রাকে সম্ভব করেছেন। তিনি আমার জন্য আমার চেয়েও বড় স্বপ্ন দেখেছেন; আমার ওপর থেকে কখনোই আশা ছাড়েননি।
তিনি লিখেছেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমি একজন খারাপ ছাত্র ছিলাম। গণিতে ৫১ নম্বর পেয়েছিলাম এবং আরেকটি বিষয়ে ফেলও করেছিলাম। তখন কখনো ভাবিনি, একদিন আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পাব কিংবা ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি রকেটকে কক্ষপথে পাঠানোর মতো একটি ঐতিহাসিক অর্জনের অংশ হতে পারব।
উৎক্ষেপণের পর আমি যখন বাবাকে ফোন করি, তিনি শুধু কাঁদছিলেন। একটিও কথা বলতে পারেননি। কিন্তু তিনি যা বলতে পারেননি, তার সবই আমি বুঝতে পেরেছি, পোস্টে লিখেছেন চন্দনা।
প্রসঙ্গত, অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় স্কাইরুটের বিক্রম-১ রকেট। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর রকেটটি সফলভাবে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে পৌঁছায়।




