মাত্র চল্লিশে মারুফের মৃত্যু, মানতেই পারছেন না সহকর্মীরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মারুফ হোসেন সজীব এ সময়ের আলোচিত নির্মাতা। সমসাময়িক যে কজন পরিচালক নিয়মিত নাটক বানাচ্ছিলেন, তাদের মধ্যে সজীব একজন। লিখেছেন উপন্যাস। কিন্তু হুট করেই এই নির্মাতা আজ মারা গেলেন।
ঘনিষ্ঠজনরা জানালেন, কিছুদিন আগেই সজীবের ওপেন-হার্ট সার্জারি হয়েছিল। আজ ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি। মারুফ হোসেন সজীবের মৃত্যুতে দেশের শোবিজে নেমে এসেছে শোক। তারকারা নির্মাতার এমন আকস্মিক মৃত্যু মানতেই পারছেন না।
অভিনেত্রী তানজিন তিশা নিজের ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ভাইয়া আপনি ফোন দিয়ে বললেন, “কতদিন দেখা নেই আপু, কত গল্প জমে আছে! সুন্দর সুন্দর গল্প করতে হবে আপু আমাদের, খুব তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্টে এসে দেখা করব” দেখে গেলেন না ভাইয়া? গল্পগুলো বলে গেলেন না? গল্পগুলো না বলেই চলে গেলেন।’
অভিনেত্রী রিমু লিখেছেন, ‘সজীব একবার আমাকে বলেছিল, “আপু, আপনাকে মানুষ এত টাইপকাস্ট করে ফেলেছে! আমি আপনাকে একটা ভালো ক্যারেক্টার দেবো। সেই ক্যারেক্টারের সন্ধানেই আছি।” সজীব, তাহলে তোমার সেই কাজটা আর হলোই না রে ভাই! আমার বায়োগ্রাফিতে তোমার নির্মাণে একটা কাজের নামও থাকল না—এটা কী করে হয় বলো? এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। খুব অবিশ্বাস্য লাগছে।’
অভিনেতা খাইরুল বাশার শোক জানিয়ে লিখেছেন, ‘মারুফ হোসেন সজীব ভাই আর আমদের মাঝে নেই। আল্লাহ তায়ালা তার সকল অপরাধ অন্যায় ক্ষমা করে তাকে শান্তিতে রাখুন এই দোয়া। আপনারা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করবেন।’
নির্মাতা শিহাব শাহীন শোক প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, ‘আমাদের সহকর্মী চিত্রনাট্যকার-পরিচালক মারুফ হোসেন সজীব গত ভোররাত ৫টায় মারা গেছেন। নিজ বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ মারা যান তিনি। বছর চল্লিশের সজীব বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন। গত জানুয়ারিতে তার ওপেন-হার্ট সার্জারি হয়েছিল। তরুণ সহকর্মীর মৃত্যুতে আমরা সবাই প্রচণ্ড শোকাহত। আমরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়াবো।’
সামাজিক মাধ্যমে সজীবের মৃত্যুর খবর জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। ফেসবুকে সজীবের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
অপূর্ব আরও লেখেন, ‘এই সময়ের নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সজীব। নিজেই নাটকের গল্প লিখতেন এবং পরিচালনা করতেন তিনি। চমৎকার নির্মাণশৈলী ও গল্প বলার ঢঙের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেশ কিছু সম্মাননাও পেয়েছিলেন।’
শোক প্রকাশ করে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, ‘মারুফ হোসেন সজীব ভাইয়ের সঙ্গে খুব বেশি কাজ করা হয়নি, কিন্তু অনেকবার দেখা হয়েছে। আমি যখন নিয়মিত নাটক করতাম, তখন ওনার সঙ্গে দেখা হলেই কত কিছু নিয়ে কথা হতো। কত পরিকল্পনা, কত আইডিয়া ছিল ওনার। আরও কত কিছু করতে চেয়েছিলেন।’
অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব লিখেছেন, ‘আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন একটা খারাপ খবর পাব, সত্যি বলতে, একদমই আশা করিনি। নিউজটা পাওয়ার পর কীভাবে প্রসেস করব, সেটাই বুঝতে আমার প্রায় পনেরো-বিশ মিনিট লেগে গেছে। অনেকক্ষণ থমকে ছিলাম। এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, মারুফ হোসেন সজীব ভাই আর আমাদের মাঝে নেই।’
অভিনেত্রী আইরা লিখেছেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর কাছ থেকে যে সম্মান,বিশ্বাস ও উৎসাহ পেয়েছি তা আমি কখনো ভুলব না।আজ তাঁর চলে যাওয়ার খবর শুনে বারবার সেই কাজের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে এন্ড আই ফীল লাইক মাই সোল ইস ক্ক্রাইং এন্ড কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের দেওয়া ভালোবাসা, উৎসাহ আর সুন্দর স্মৃতিগুলো থেকে যায়।’
এছাড়াও নাট্যসংশ্লিষ্টরা অনেকেই শোক জানাচ্ছেন।
মারুফ হোসেন সজীবের জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’, ‘জলকৌড়ি’, ‘দু’জন দু’জনার’, ‘বাবলার জাদুর বাক্স’, ‘খুশি’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘কথা বন্ধু’, ‘কাজল চোখের মেয়ে’, ‘আপনারা আমাকে শুনুন’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘১০০ বিঘা ফুল বাগান’, ‘মুমতা’, ‘মেঘলা’ ও ‘নুসাইবা’।





